বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা সহজে কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ডিজেলের (Diesel Price) মজুত দ্রুত কমতে থাকায় আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই জ্বালানির ঘাটতি চলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক তেল বাজারের প্রতিবেদনে। উদ্বেগের বিষয়, বছরের যে সময়ে সাধারণত বিশ্ববাজারে ডিজেলের মজুত (Fuel Price) বাড়তে থাকে, সেই সময়েই উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শেষ দিকে তেল শোধনাগারগুলি উৎপাদন বাড়ালেও বাজারে ডিজেলের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে শিল্প, পরিবহণ এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
উৎসবের মরসুমে ফের বাড়বে ডিজেলের দাম (Diesel Price):
ডিজেলের (Diesel Price) বাজারে এই অস্থিরতার অন্যতম কারণ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের রপ্তানিতে বিঘ্ন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিতে তেল শোধনাগার ও ট্যাঙ্কারে হামলার খবর সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করেছে। এই অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছয়। ফলে সেখানকার উৎপাদন বা পরিবহণে বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে পড়ে। ডিজেলের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সরবরাহের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে মজুত ধরে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: জন্ম হায়দারাবাদে! মাত্র ৭৬০ টাকা নিয়ে যান বিদেশে, আজ তিনিই কিনছেন IDBI ব্যাঙ্ক
দাম বৃদ্ধির ছবিও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মাসে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পাইকারি বাজারে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। সিঙ্গাপুরের বাজারেও দাম ২০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়ায়। পরে কিছুটা দাম কমলেও তা যুদ্ধ শুরুর আগের স্তরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএ-র তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরো ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন দেশের বাজারে দামের ওঠানামা এক রকম নয়, তবু সামগ্রিকভাবে জ্বালানির ব্যয়বৃদ্ধি পরিবহণ ও পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র-সহ কয়েকটি দেশ নিজেদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে ছেড়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল সরবরাহ বাড়িয়ে দাম বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানো। কিন্তু সরকারি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার সুযোগ সীমিত। সেই মজুত কমতে থাকলে বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি জোগানোর ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তার উপর শোধনাগারগুলিতে উৎপাদন বাড়ালেই যে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ, অপরিশোধিত তেল পৌঁছনো, তা পরিশোধন করা এবং তৈরি ডিজেল বিভিন্ন দেশে পাঠানোর পুরো ব্যবস্থাই আন্তর্জাতিক পরিবহণ ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিশোধিত পণ্যের রপ্তানি না বাড়লে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিশ্রুতি পূরণ, পঞ্চমীতেই ঢুকল ৩৮% DA সহ বেতন, গালভরা হাসি সরকারি কর্মীদের মুখে
সাধারণত আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ডিজেলের মজুত বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু এ বার সেই সময়েও মজুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের এই ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানির দামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পণ্যবাহী ট্রাক, কৃষিকাজ, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পরিবহণ খরচও বেড়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচের চাপ সাধারণ ক্রেতাদের উপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ডিজেলের ঘাটতি চলবে কি না, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণের স্বাভাবিকতা এবং শোধনাগারগুলির উৎপাদন ও রপ্তানি কতটা বাড়ে, তার উপর। আপাতত বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, কমতে থাকা মজুতের মধ্যে সরবরাহ সচল রাখা এবং দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনা (Disel Price)।














