বাংলা হান্ট ডেস্ক : সপ্তমীর রাতের উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তে বদলে গেল আতঙ্কে। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে কলকাতার পুজো মহলে। এই পরিস্থিতিতে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নন সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের উদ্যোক্তারাও। চোরবাগানের ঘটনার অভিঘাতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) জানিয়ে দিয়েছেন, মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এবার ধাপে ধাপে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
কী পদক্ষেপ নিলেন সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)?
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে দর্শনার্থীদের ঢল প্রতি বছরই থাকে। তবে এবার উৎসবের মাঝেই নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুজো কমিটি। মণ্ডপ বন্ধ করে দেওয়ার পথে না হেঁটে, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত এড়াতে ধীরে ধীরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সজল ঘোষের কথায়, ‘আমরা স্টেপ ডাউন করছি৷ মন ভেঙে গিয়েছে। পুরোপুরি বন্ধ না করে আস্তে আস্তে ভিড় কমাচ্ছি।’
অন্যদিকে, চোরবাগানের দুর্ঘটনায় কীভাবে পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে উঠল, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মণ্ডপের সামনে অতিরিক্ত ভিড় জমে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। ভিড়ের সঙ্গে গরমের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে খবর। আহতদের চিকিৎসার জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন : পুজোয়ে পোলাও মাংসের ভোজ! দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটাতে কৌস্তভ বাগচীর বিশেষ উদ্যোগ
ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত পরিস্থিতি সামলাতে তৎপর হন। দুর্ঘটনা সম্পর্কে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথা জানানো হয়েছে—১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ এবং ০৩৩২২১৪১৩১০। চোরবাগানের ঘটনার পর সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের ভিড় কমানোর সিদ্ধান্ত অন্য পুজো উদ্যোক্তাদের কাছেও সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে—উৎসবের আনন্দ যেন কোনওভাবেই মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে বড় হয়ে না দাঁড়ায়।














