বাংলাহান্ট ডেস্ক: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর জের, আরও দু’দিন জেল হেফাজতে থাকতে হবে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Leaders)-র দুই নেতা সৌরভ দাস (Saurav Das) এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে (Ashutosh Ranka)। সোমবার তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির স্পেশ্যাল এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। কেন তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হল, সেই ব্যাখ্যাও আদালতের লিখিত নির্দেশে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে সিজেপি। দলের অভিযোগ, নেতাদের আটকে রাখার নামে আইনি প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
কেন বাড়ানো হল সিজেপি নেতা (CJP Leaders) সৌরভ-আশুতোষদের জেল হেফাজতের মেয়াদ?
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশি তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই সৌরভ ও আশুতোষের জেল হেফাজত বাড়ানো হয়েছে। স্পেশ্যাল এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ তাঁর লিখিত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর উদ্দেশ্যে জমায়েত করার পাশাপাশি সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার আগে সিজেপি নেতারা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্ডে সই করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও সমাজমাধ্যমে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আদালতের বক্তব্য, নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাঁরা বিক্ষোভের অনুমতি পেয়েছিলেন। সেই শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (CJP Leaders)।
আরও পড়ুন: ভারতে আসবে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! আজ থেকেই লাগু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, সৌরভ ও আশুতোষের আচরণ থেকে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে তাঁরা আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নন এবং ভবিষ্যতেও আইন ভাঙতে পারেন। যদিও তাঁদের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে দাবি করেন, তাঁদের মক্কেলরা ভবিষ্যতে কোনও আইনবিরুদ্ধ কাজে জড়াবেন না। সেই মর্মে আশ্বাসও দেওয়া হয়। আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, সৌরভ ও আশুতোষ আলাদা আলাদা ভাবে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন। তবে তাঁদের এই যুক্তি সত্ত্বেও আদালত আপাতত হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে দুই নেতার মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।
আদালতের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই পাল্টা সরব হয়েছে সিজেপি। দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা প্রশাসনের অতি সক্রিয়তারই পরিচয়। সিজেপির বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর সিজেপির দুই আহ্বায়ক সৌরভ ও আশুতোষকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরদিন ভোরে দলের আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্কেকে গ্রেফতার করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়েছে। অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং বন্ডের শর্ত ভঙ্গের মতো অভিযোগও আনা হয়।

আরও পড়ুন: কলেজে পড়ার জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেবে কেন্দ্র, কারা পাবেন এই স্কলারশিপ?
এই ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক দিন আগে। গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ এবং আশুতোষকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে আদালত থেকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে জামিন পান সৌরভ ও আশুতোষ। কিন্তু তার দু’দিনের মধ্যেই ফের যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে তাঁদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের সময় তাঁরা গেট টপকে ভিতরে ঢুকেছিলেন। এরপরই নতুন করে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হয়। আগের বার জামিন পেলেও এবার কেন তাঁদের জেল হেফাজতে থাকতে হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। একদিকে আদালত আইনভঙ্গের আশঙ্কা ও বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে সিজেপি এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ বলে দাবি করছে (CJP Leaders)।














