বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে রাজ্য সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীকে(Anindita Roy Saraswati)। তিন মাসের মধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকানোর সুপারিশ জমা দিতে হবে এই দলকে।
কে এই অনিন্দিতা রায় সরস্বতী (Anindita Roy Saraswati)?
বিচারবিভাগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর। তিনি নগর দেওয়ানি আদালতের মুখ্য বিচারক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজ্যের প্রথম মহিলা জেলা বিচারক হিসেবে হাইকোর্টের বিচারপতি পদে উন্নীত হওয়ার নজিরও তাঁর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে জেলা বিচারকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি হাইকোর্টে বিচারপতি নিশীতা মাত্রের সঙ্গে ডিভিশন বেঞ্চেও কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে রাজ্যে SIR ট্রাইবুনালের দায়িত্বে রয়েছেন এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। এবার চোরবাগানকাণ্ডের তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে।
২১ অক্টোবরের সরকারি নির্দেশিকায় SIT গঠনের কথা জানানো হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে এই দল তৈরি করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। তদন্তের নেতৃত্বে থাকবেন অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পুলিশি বিভাগের প্রতিনিধিরা তদন্তের কাজে যুক্ত থাকবেন। ছয় সদস্যের এই দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের STF-এর ডিজি-আইজিপি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রতিনিধি এবং কলকাতায় কর্মরত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-এর একজন প্রতিনিধি।
শুধু দুর্ঘটনার মুহূর্তে কী ঘটেছিল, তা জানলেই তদন্ত শেষ হবে না। মণ্ডপ তৈরির অনুমোদন, নিরাপত্তার পরিকল্পনা এবং বিপুল জনসমাগম সামলানোর প্রস্তুতি—পুরো ব্যবস্থাটিই খতিয়ে দেখা হবে। পুজো কমিটি থেকে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা—প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব কতটা পালন করেছিলেন, তা যাচাই করবে SIT। জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আরও পড়ুন : দশমীর সন্ধ্যায় রক্তাক্ত মালদা! বাড়িতে ঢুকে বিজেপি কর্মীকে কুপিয়ে, গুলি করে খুনের অভিযোগ
ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহের জন্য CCTV ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে তোলা ভিডিও, পুলিশ ও কন্ট্রোল রুমের নথি এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভা, পূর্ত দফতর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকার দিকেও নজর দেওয়া হবে। কোথাও দায়িত্ব পালনে অবহেলা, নিয়ম ভাঙা কিংবা বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল কি না, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করবে তদন্তকারী দল। আগামী তিন মাসে SIT-এর রিপোর্টে কী উঠে আসে, এবং সেই সুপারিশ বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।














