বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘদিনের পথচলা। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর মদন মিত্রকে (Madan Mitra) ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এবার তাঁর নিজের মুখেই শোনা গেল রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
কী বললেন মদন মিত্র (Madan Mitra)?
কামারহাটি কেন্দ্র থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন মদন মিত্র। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজের এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন বলে দাবি তাঁর। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মদন বলেন, “আমি কোনওদিন বেইমানি করিনি, আর করবও না। আমার দুঃখ আমি জিতলেও কামারহাটির মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছি না। মানুষের কাছে পৌঁছতে গেলেই আক্রান্ত হচ্ছি।”
এলাকায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন, তা বোঝাতে গিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরেও রয়েছে। মদনের কথায়, “রিভলবার, ছুরি, লোহার রড দেখানো হচ্ছে।”
তবে শুধু এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেই থামেননি বর্ষীয়ান এই নেতা। রাজনীতিতে মানুষের মনোভাব বদলে গিয়েছে বলেও মনে করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ। সেই হতাশা থেকেই রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

আরও পড়ুন : পুরভোটে বিজেপির টিকিট পেতে পারেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা! অনন্যা-জুঁইকে নিয়ে জোর জল্পনা
মদন মিত্রের কথায়, “আমার বারবারই মনে হচ্ছে এই বিজয়াটাই বোধহয়…আর রাজনীতি করা যাবে না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, আমাদের মতো মানুষের জন্য এটাই শেষ বিজয়া করে দিন। সব করা যাবে, ধর্ম-কর্ম সব। কিন্তু রাজনীতি করা যাবে না। মানুষ আর রাজনীতিবিদদের পছন্দ করছে না। ক্ষমতায় যাঁরা আছে তাঁদের তো করবেই। জোর করে এখন ভিড় করতে হচ্ছে। মানুষ আমাদের আর পছন্দ করছে না।” মদন মিত্রের এই মন্তব্যে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বক্তব্যের ভিত্তিতে এখনই তাঁর রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায় না।














