বাংলা হান্ট ডেস্ক : জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঝাড়গ্রাম সফরে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জনজাতি পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানো, পড়ুয়াদের আর্থিক সহায়তা এবং কাজের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) ?
শুক্রবার মানিকপাড়ার কালাঝারিয়ায় একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে লোধা-শবরদের জন্য বিশেষ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণায়, ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার মোট ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কালাঝারিয়া গ্রামেও এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য বাজেটে জনজাতি সম্প্রদায়ের পরিবারগুলির কাছে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে লোধা-শবর অধ্যুষিত এলাকার পরিবারগুলির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে বিশেষ খাবারের কিট। চাল, ডাল, তেল এবং সয়াবিন থাকবে সেই প্যাকেটে।
এই সামগ্রী রেশনের বিকল্প নয়, বরং তার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবেই দেওয়া হবে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার পরিবার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারে। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের পুষ্টির প্রয়োজন মেটানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ঝাড়গ্রামের ২ লক্ষ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে এসটি বৃত্তি দেওয়া হবে। কাজের সুযোগ নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের নতুন করে জবকার্ড প্রয়োজন, তাঁরাও আবেদন করে তা পেতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন : পুরভোটে BJP-র প্রোজেক্টেড মেয়র সজল ঘোষ? এবার জানালেন দিলীপ ঘোষ
এ ছাড়া আদিবাসী মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দিতে আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালুর কথাও জানিয়েছেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ঝাড়গ্রাম জেলায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০৩ জন এই প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে আগামী ছমাসের মধ্যে জেলার সার্বিক উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা কতটা কার্যকর হয়, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ।














