Durga Puja 2026 Live Updates

গালওয়ানের পর ফের সংঘাতের আশঙ্কা? অরুণাচল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, কি বলছে বিদেশ মন্ত্রক

Published on:

Published on:

New concerns over the situation on the India-China border in Arunachal Pradesh
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) ভারত-চিন সীমান্তের (India-China Border) পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক জায়গায় দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) প্রধান শত্রুজিৎ কাপুর। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও। এর পরেই পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের বক্তব্য, সীমান্তে চিনা সেনা নির্ধারিত টহলদারির নিয়ম থেকে সরে এলে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপরেও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ

বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শত্রুজিৎ কাপুর জানান, অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় জল্পনা। বিরোধীদের প্রশ্ন, সীমান্তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকলে কেন্দ্র এতদিন তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি কেন? এই বিতর্কের মধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারত-চিন সীমান্তে চিনা সেনা নির্দিষ্ট টহলদারির পদ্ধতি থেকে সরে এলে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভুল বোঝাবুঝি ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে দুই দেশই কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাবে। সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় এলএসি সম্পর্কে দুই দেশের বোঝাপড়া আরও স্পষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: বাড়ির সাধারণ রান্নাতেই আনুন রেস্তরাঁর স্বাদ, সহজ কয়েকটি ধাপে বানিয়ে ফেলুন দই কাতলা

সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইটিবিপি। আলওয়ারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাহিনীর প্রধান জানান, সীমান্তের বিভিন্ন ইউনিটে ড্রোন পরিচালনার জন্য বিশেষ প্লাটুন তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়াতে ‘স্ট্রাইক’ নামে একটি নতুন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। সীমান্তের কঠিন পরিস্থিতিতে জওয়ানদের দ্রুত পদক্ষেপ করা এবং প্রয়োজনীয় কৌশল প্রয়োগের দক্ষতা বাড়ানোই এই ধরনের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। অরুণাচল সীমান্তে সংঘর্ষের বিষয়ে তাঁর মন্তব্যের পর এই প্রস্তুতির কথা সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। পূর্ব লাদাখে দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বজায় ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখের ডেপসাং ও ডেমচক এলাকা থেকে সেনা সরানো এবং টহলদারি সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছয় দুই দেশ। এর পরেই কাজানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি সেই আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছিল। পরবর্তী সময়েও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

New concerns over the situation on the India-China border in Arunachal Pradesh

আরও পড়ুন: আরও হালকা, আরও নিখুঁত, রেডারে ধরা পড়াও কঠিন! ব্রহ্মস-এনজি নিয়ে বড় পরিকল্পনা ভারতের

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। ভারতের অবস্থান, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতি সম্ভব নয়। তাই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে মতপার্থক্য দূর করতে এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) সংঘর্ষ নিয়ে আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্যের পর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ফলে পরিস্থিতির প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পরবর্তী সরকারি বক্তব্য এবং দুই দেশের আলোচনার দিকেই নজর থাকবে।