বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুম্বইয়ে (Mumbai ) জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। ধৃতের নাম মহম্মদ হাসান আবুর, বয়স ৩৩ বছর। মুম্বইয়ের মাহিম মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এটিএস সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত যুবক অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি পারফিউম বিক্রির ব্যবসাও করতেন। সেই কাজের আড়ালেই তিনি সমাজমাধ্যমে ভারতবিরোধী প্রচার চালাতেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
মুম্বইয়ে (Mumbai ) জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক যুবক
এটিএস সূত্রে খবর, ধৃতের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের একটি অডিও ক্লিপ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অডিওতে উসকানিমূলক বক্তব্য ছিল। পাশাপাশি, অভিযুক্তের ফোনে ভারতবিরোধী বিভিন্ন বিষয়বস্তু এবং সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক পোস্টের হদিস মিলেছে বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, নিজের ব্যবসা এবং অ্যাপভিত্তিক বাইক চালানোর সূত্রে তৈরি হওয়া যোগাযোগের পরিসরকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে উগ্রপন্থী ভাবধারা ছড়ানোর চেষ্টা করতেন। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং অভিযুক্তের প্রকৃত ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে (Mumbai)।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি এটিএসের। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত টেলিগ্রামে একটি গ্রুপ পরিচালনা করতেন। গত ১ জুন ওই গ্রুপে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের একটি অডিও আপলোড করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ‘ইবন-ই-কাসিম’ নামে পাকিস্তান-সমর্থিত একটি চরমপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গেও মহম্মদ হাসানের যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। ওই চ্যানেলে তাঁর সক্রিয়তা কতটা ছিল এবং তিনি সেখানে কী ধরনের বিষয়বস্তু আদানপ্রদান করতেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ডিজিটাল যোগাযোগের সূত্র ধরে আরও কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সন্ধান মেলে কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।
এটিএসের প্রাথমিক তদন্তে আরও সন্দেহ, অভিযুক্তের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের সরাসরি যোগাযোগ থাকতে পারে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি গোয়েন্দা আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই যোগাযোগের প্রকৃতি, কত দিন ধরে তা চলছিল এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ধৃতের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তাঁর যোগাযোগের পরিধি বোঝার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি, কোনও বিদেশি সংগঠন বা ব্যক্তির নির্দেশে তিনি কাজ করতেন কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গালওয়ানের পর ফের সংঘাতের আশঙ্কা? অরুণাচল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, কি বলছে বিদেশ মন্ত্রক
সব মিলিয়ে, মহম্মদ হাসান আবুরকে ঘিরে তদন্তের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তিনি শুধুই অনলাইনে উগ্রপন্থী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, নাকি এর বাইরেও কোনও কার্যকলাপের পরিকল্পনা ছিল। সম্ভাব্য নাশকতার ছক, সহযোগীদের পরিচয় এবং তাঁর যোগাযোগের নেটওয়ার্ক কত দূর বিস্তৃত—এই প্রতিটি বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায়। ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, তা নিয়েও নজর রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট নাশকতার পরিকল্পনা বা তার বাস্তবায়নের প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে প্রাথমিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Mumbai)।














