বাংলা হান্ট ডেস্ক : গঙ্গাসাগরে (Gangasagar) পৌঁছতে গিয়ে যাতে আর ভেসেলের সময়সূচির উপর নির্ভর করে থাকতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এবার রেল যোগাযোগের বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে আনলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সাগরদ্বীপে যাতায়াতের সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ভাটা পড়লে নদী পারাপারে বিঘ্ন ঘটে, দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী থেকে পুণ্যার্থী—সকলেই। এই পরিস্থিতিতে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের পাশাপাশি গঙ্গাসাগরকে রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
গঙ্গাসাগর অবধি রেল নিয়ে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
সোমবার সাঁতরাগাছি থেকে রাজস্থানের জয়পুরগামী নতুন ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সামনে এই দাবি তোলেন তিনি। ভিডিও কলের মাধ্যমে নতুন পরিষেবার সূচনা করেন রেলমন্ত্রী। নতুন ট্রেন চালুর জন্য অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানানোর পরেই বাংলার জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণ হয়েছে। এবার গঙ্গাসাগরকেও সেই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন। নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অশ্বিনীজি আপনি কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। বাংলার জন্য আপনাকে একটা জিনিস করতেই হবে। গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। টানেল করে নিয়ে যান বা ফ্লোডিং করে। আমাদের গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের আস্থার জায়গা। মুড়িগঙ্গার উপর আমি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেছি। ২০২৯ পর্যন্ত ব্রিজের কাজ হয়ে যাবে। আপনি সার্ভে টিম পাঠিয়ে গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে জুড়ে দিন।”
গঙ্গাসাগরের ধর্মীয় গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রীকে সেখানে রেলপথের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে রেলপথের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সমীক্ষা ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, গঙ্গাসাগরে পৌঁছনোর পথ আরও সহজ করতে মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। শনিবার কাকদ্বীপের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৯ সালে এই সেতুর উদ্বোধন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : শীতের কলকাতায় এক সপ্তাহব্যাপী চলচ্চিত্র উৎসব! ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের দিনক্ষণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
সাগরদ্বীপে রয়েছে কপিল মুনির আশ্রম, যেখানে বিশেষ করে গঙ্গাসাগর মেলার সময় বহু পুণ্যার্থী সমবেত হন। কিন্তু মুড়িগঙ্গা নদী দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে রেখেছে। বর্তমানে নদী পারাপারের জন্য ভেসেল পরিষেবার উপর নির্ভর করতে হয় যাত্রীদের। জলস্তর কমে গেলে, বিশেষত ভাটার সময়, ভেসেল চলাচল ব্যাহত হয় বা বন্ধ থাকে। সেতু তৈরি হলে সাগরদ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হতে পারে।














