Durga Puja 2026 Live Updates

কোচিং ছাড়াই UPSC-তে সাফল্য! চম্বলে করেছেন ডাকাত দমনের লড়াই, চিনে নিন ‘লেডি সিংঘম’ IPS প্রীতিকে

Published on:

Published on:

Success Story of Preeti Chandra will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাংবাদিকতা থেকে শিক্ষকতা, আর সেখান থেকে পুলিশের উর্দি পরে অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই—আইপিএস প্রীতি চন্দ্রের (Preeti Chandra) সাফল্যযাত্রা (Success Story) যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প। জীবনের একাধিক পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছেন তিনি। কোনও কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে সাফল্য অর্জন করেন প্রীতি। পরবর্তীকালে রাজস্থান পুলিশের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে চম্বল (Chambal) অঞ্চলে ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং কর্তব্যনিষ্ঠার জন্যই পরিচিতি পান ‘লেডি সিংহাম’ নামে। তবে এই পরিচিতির পিছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার কাহিনি।

প্রীতি চন্দ্রের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

রাজস্থানের সিকার জেলার কুদান গ্রামে জন্ম প্রীতি চন্দ্রের। তাঁর বাবা রামচন্দ্র সুন্দা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ফলে ছোট থেকেই পরিবারে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব বুঝে বড় হয়েছেন তিনি। গ্রামের সরকারি স্কুলে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য জয়পুরে চলে যান প্রীতি। সেখানে মহারানি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীকালে এমএ, বি.এড এবং এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছিল তাঁর। সাধারণ চাকরির গণ্ডিতে আটকে না থেকে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন প্রীতি। সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে তাঁকে সিভিল সার্ভিসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় (Success Story) ।

আরও পড়ুন: ভারতীয় T20 দলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন রোহিত শর্মা! খুশি করতে চান অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকে

তবে আইপিএস অফিসার হওয়ার পথটা তাঁর কাছে একেবারেই মসৃণ ছিল না। পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে শিক্ষকতা এবং সাংবাদিকতার মতো পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রীতি। কিন্তু তাঁর মনে ছিল সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে শেষ পর্যন্ত অন্য পেশা ছেড়ে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেন তিনি। কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়ে নিজের পড়াশোনা এবং অনুশীলনের উপরই ভরসা রেখেছিলেন। নিয়মিত প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের জোরে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সফল হন তিনি। সর্বভারতীয় স্তরে ২৪৯ র‌্যাঙ্ক অর্জন করে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে জায়গা করে নেন প্রীতি। ২০০৮ ব্যাচের রাজস্থান ক্যাডারের এই আইপিএস অফিসারের সাফল্য প্রমাণ করে, নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে এগোলে প্রতিকূলতাকেও অতিক্রম করা সম্ভব।

পুলিশের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজস্থানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজ করেছেন প্রীতি চন্দ্র। করৌলি, বুন্দি, বিকানের এবং জয়পুরের মতো জায়গায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং যোধপুরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে নানা ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে রাজস্থানের করৌলি অঞ্চলে কাজ করার সময়ই তাঁর সাহসী পুলিশি ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। চম্বল অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতদের কার্যকলাপের জন্য পরিচিত। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং অপরাধীদের মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের কারণে সেখানে পুলিশের কাজ যথেষ্ট কঠিন বলে মনে করা হয়। সেই পরিস্থিতিতে ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে নিজের দক্ষতা ও দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় দেন প্রীতি।

Success Story of Preeti Chandra will amaze you.

আরও পড়ুন: গুরুতর জখম হয়েও দায়িত্বে ছিলেন অনড়! ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার পেলেন UAE-র সর্বোচ্চ সম্মান

কঠোর পুলিশি পদক্ষেপ এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকার জন্যই প্রীতি চন্দ্রের নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘লেডি সিংহাম’ পরিচিতি। তাঁর কর্মজীবনের এই অধ্যায় তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। তবে তাঁর সাফল্যের কাহিনি শুধুমাত্র ডাকাত দমন বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সাফল্য, তারপর পুলিশের দায়িত্ব পালন—প্রতিটি ধাপেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। নিজের লক্ষ্য থেকে সরে না এসে প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন। প্রীতি চন্দ্রের এই যাত্রা তাই বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর জীবন দেখায়, সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা নয়, প্রয়োজন ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার মানসিকতা (Success Story)।