বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, এবার সেই প্রশ্নেই একাধিক দফতরের কাজ খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। বিভিন্ন প্রকল্পে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেরি হওয়ায় আধিকারিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়োজনীয় অগ্রগতি না হলে শুধু সতর্ক করেই থেমে থাকা হবে না, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের মতো পদক্ষেপও করা হতে পারে।
সরকারি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)
নবান্নে দফতরগুলির সচিবদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে বিজেপির সংকল্পপত্রে উল্লেখ করা প্রতিশ্রুতি এবং সরকারি প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “আমি দ্রুত ফলাফল চাই।”আবাস যোজনার কাজ শেষ করতে প্রশাসনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় যেসব বাড়ি এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি, ডিসেম্বরের মধ্যেই সেগুলির নির্মাণ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবাস যোজনার পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ভিবি-জি রামজি প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকটি ব্লকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিডিওদের সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব থাকলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের অন্যত্র বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে জানাতে প্রচারও আরও ব্যাপকভাবে চালানোর কথা বলা হয়েছে।
জল জীবন মিশনের কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের নিয়মিত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও দফতরের গাফিলতি সামনে এলে তা যে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের রিপোর্টের বিষয়টিও উঠে আসে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ নিয়ে রিপোর্ট ইতিবাচক হলেও রাজ্যের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। সব প্রকল্পের রিপোর্টে অসন্তোষ থাকলেও কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কাজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিষেবার আওতা ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নিয়ে দফতরের মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর হুগলি সফরের আগেই এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য-সহ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : জাতীয় মেলার তকমা পাবে গঙ্গাসাগর! ১৮ লক্ষ বর্গফুট জুড়ে এবার বিরাট আয়োজন সরকারের
এ দিনের বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কোনও তফসিলি উপজাতি পরিবার যাতে বিদ্যুৎ সংযোগের বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নবান্নের এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজে অগ্রগতির পাশাপাশি বাস্তবে কতটা কাজ হচ্ছে, তার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।














