প্রাথমিক শিক্ষায় বড় বদল! এক ক্লাসের দায়িত্বে একজন শিক্ষক, ঘোষণা স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর

Published on:

Published on:

School Education Minister announces major changes in primary education
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রাথমিক শিক্ষায় (Primary Education) বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রতিটি শ্রেণির জন্য একজন করে শিক্ষককে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকই একটি ক্লাসের সমস্ত বিষয় পড়াবেন। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের অগ্রগতির সঙ্গে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করার কথাও জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে প্রাথমিক স্তরে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষক মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় (Primary Education) বড় বদল রাজ্যের

এই পদ্ধতি আনার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকলে কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও বাড়ে। তাঁর কথায়, “আমরা চর্চা করে, আলোচনা করে, যে বিষয়গুলো দেখা গিয়েছে, যদি আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব ফিক্সড হয়ে যায়, তাহলে সেই কাজের ওপর নিষ্ঠাও বেড়ে যায়।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই উদ্যোগকে স্কুলশিক্ষার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

নতুন পদ্ধতিতে একই শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে একটি শ্রেণির পড়ুয়াদের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ফলে কার কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কে কোন বিষয়ে ভালো করছে কিংবা কাকে বাড়তি সাহায্য দিতে হবে, তা বোঝার সুযোগ বাড়তে পারে। সরকারের ভাবনা, এই ধারাবাহিক যোগাযোগ পড়ুয়াদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তুলবে। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের অগ্রগতির ভিত্তিতে শিক্ষকদের কাজ মূল্যায়নের পরিকল্পনাও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।শিক্ষাবিদ কাজী মাসুম আখতার এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “আমি বলতে পারি, এর থেকে বড় পদক্ষেপ হতে পারে না। প্রাথমিক শিক্ষাই শিকড়। প্রত্যেক ক্লাসের এমন এক শিক্ষক থাকবেন, যিনিই দায়িত্ব নেবেন। তিনি নিজের ছাত্রদের অত্যন্ত যত্ন করে তৈরি করবেন।”

তবে এই ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “প্রাথমিকে এক জন শিক্ষককে দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করার চেষ্টা চলছে। এখানে উত্তরণের কোনও জায়গা আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা ভীষণই অপ্রতুল। স্কুল ধুকছে। এক ক্লাসে এক শিক্ষক। তৃতীয় শ্রেণি থেকে বিজ্ঞানের বিষয়গুলো আস্তে আস্তে নিয়ে আসা হয়।”একজন শিক্ষককে ভাষা, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল এবং অঙ্কের মতো আলাদা বিষয় একসঙ্গে পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা না করলে এই মডেল বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, “সেক্ষেত্রে একজন শিক্ষকই ল্যাঙ্গুয়েজ পড়াবেন, বিজ্ঞান পড়াবেন, ইতিহাস-ভূগোলের পাশাপাশি অঙ্কও কষাবেন! আমি শুনিনি, এরকম মডেল সাকসেসফুল হয়েছে।”

School Education Minister announces major changes in primary education

আরও পড়ুন : শীতের মুখে বদলাবে আবহাওয়া? কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা,জানুন পূর্বাভাস

উল্লেখ্য, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঘোষণার বাইরে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে এর বাস্তব প্রয়োগ কেমন হয়, সেটাই দেখার। ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে পড়ুয়াদের উন্নতি কীভাবে যুক্ত হবে, তার মূল্যায়ন কোন পদ্ধতিতে হবে এবং স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কি না, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।