লকডাউনের সুযোগ কাজে লাগিয়েই কেল্লাফতে!বাড়িতে বসেই কফি তৈরি তৈরি থেকে ১৫ কোটির ব্যবসা গড়লেন অভিনব

Published on:

Published on:

Success Story of Abhinav Mathur will amaze you.

বাংলা হান্ট ডেস্ক: কোভিডের ধাক্কায় বদলে গেল ব্যবসার দিশা! বাড়িতে বসেই কফি তৈরির সরঞ্জাম বিক্রি করে সফলভাবে (Success Story) ১৫ কোটির সংস্থা গড়লেন বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) অভিনব মাথুর (Abhinav Mathur)। মাত্র ছ’বছর আগে যে ব্যবসার পথচলা শুরু হয়েছিল করোনা অতিমারির কঠিন সময়ে, আজ সেই উদ্যোগই কফিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা অভিনব মাথুরের প্রতিষ্ঠিত ‘সামথিংস ব্রিউইং’ এখন শুধু কফি তৈরির যন্ত্রপাতি বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বাড়িতে বসে ক্যাফের মতো কফি তৈরির স্বপ্নপূরণের ঠিকানা। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কফি মেশিন থেকে শুরু করে বিশেষ ধরনের কফির বীজ, নানা সরঞ্জাম—কফি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব কিছুই পাওয়া যায় এই সংস্থার মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার রাজস্ব ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরে সেই অঙ্ক ২২ থেকে ২৫ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অভিনব মাথুরের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

অভিনবের এই সাফল্যের (Success Story) পিছনে রয়েছে সময়ের পরিবর্তন বুঝে ব্যবসার সুযোগ কাজে লাগানোর কৌশল। ২০২০ সালে কোভিড অতিমারির জেরে যখন একের পর এক ক্যাফে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, তখন বড় ধাক্কা খেয়েছিল কফি সরঞ্জামের ব্যবসাও। বিশেষ করে ব্যবসা থেকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহের (B2B) বাজার প্রায় থমকে যায়। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন সম্ভাবনা দেখতে পান অভিনব। ক্যাফেতে গিয়ে কফি খাওয়ার সুযোগ না থাকায় অনেকেই বাড়িতে নিজের পছন্দমতো কফি তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছিলেন। অথচ উন্নত মানের আন্তর্জাতিক কফি মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ছিল সীমিত। এই ঘাটতিকে সামনে রেখেই নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘যুব প্রজন্ম নেতৃত্ব দিন, আমরা গাইড করব’! রামলীলা থেকে মমতার বার্তা, নিশানায় জ্ঞানেশ-বিজেপি

সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক কফি দিবসে ‘সামথিংস ব্রিউইং’-এর ওয়েবসাইট চালু করেন অভিনব। তবে শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্য আমদানি করা, অতিমারির মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা এবং নতুন সংস্থার উপর ক্রেতাদের আস্থা তৈরি করা—সব ক্ষেত্রেই বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তার উপর ওয়েবসাইটে থাকা বহু কফি মেশিনের দাম ছিল ৫০ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকার মধ্যে। ফলে এত দামি পণ্য অনলাইনে কেনার আগে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিধায় ভুগতেন ক্রেতারা। এই পরিস্থিতিতে বড় ই-কমার্স সংস্থার উপর নির্ভর না করে নিজস্ব প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেন অভিনব। এমনকী ভিডিও কলের মাধ্যমে গ্রাহকদের কফি তৈরি করে দেখাতেন তিনি। পণ্যের ব্যবহার ও কার্যকারিতা সরাসরি বুঝিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

কিন্তু শুধু উচ্চবিত্ত কফিপ্রেমীদের কাছে পৌঁছে ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি অভিনবের। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দামি সরঞ্জামের পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্যও প্রয়োজন ছিল। সেই ভাবনা থেকেই ব্যবসা শুরুর প্রায় এক বছর পর নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘বুদান’ নিয়ে আসে সংস্থাটি। এই ব্র্যান্ডের কফি মেশিনের প্রাথমিক দাম রাখা হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ফলে যাঁরা প্রথমবার বাড়িতে এসপ্রেসো তৈরির সরঞ্জাম কিনতে চাইছিলেন, তাঁদের কাছেও পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। দামি আন্তর্জাতিক পণ্যের পাশাপাশি তুলনায় কম খরচের বিকল্প নিয়ে আসার এই সিদ্ধান্ত সংস্থার ক্রেতার পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কফিপ্রেমীদের মধ্যে পরিচিতি বাড়তে থাকে ‘সামথিংস ব্রিউইং’-এর।

Success Story of Abhinav Mathur will amaze you.

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ হটাতে ‘ইন্ডি’র মহাসমাবেশ, পালটা শিখ-দাঙ্গা নিয়ে রাজপথে বিজেপি!

বর্তমানে অভিনব মাথুরের সংস্থা শুধুমাত্র অনলাইন বিক্রির মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। বেঙ্গালুরু ও সুরাতে রয়েছে তাদের এক্সপেরিয়েন্স স্টোর, যেখানে ক্রেতারা সরাসরি পণ্য সম্পর্কে জানতে এবং কফি তৈরির অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। পাশাপাশি, কফিপ্রেমীদের নিয়ে একটি নিজস্ব কমিউনিটি গড়ে তোলার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। একদিকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সরঞ্জাম, অন্যদিকে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সাশ্রয়ী পণ্য—এই দুইয়ের মেলবন্ধনই তাদের ব্যবসার অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে। মাত্র ছ’বছরে ১৫ কোটির বেশি রাজস্বের সংস্থা গড়ে তোলার এই যাত্রা দেখিয়ে দেয়, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষের বদলে যাওয়া চাহিদা বুঝতে পারলে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ভারতে বাড়িতে কফি তৈরির সংস্কৃতিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছেন অভিনব মাথুর (Success Story)।