বাংলা হান্ট ডেস্ক: “আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ”—দিল্লির (Delhi) রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে এই স্লোগানেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) নিশানা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার বিরোধীদের ডাকা বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে শুধু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হওয়াই নয়, আগামী দিনের আন্দোলনের নেতৃত্ব যুব প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার বার্তাও দিলেন তিনি। মমতার কথায়, “যুব প্রজন্ম নেতৃত্ব দিন, আমরা গাইড করব।” পড়ুয়া, মহিলা এবং জেন জি-র প্রতিনিধিদেরও এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রামলীলা ময়দানের প্রতিবাদ থেকে মঞ্চ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা (Mamata Banerjee)
রবিবার দুপুর থেকেই রামলীলা ময়দান এবং সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত হতে শুরু করেন অসংখ্য মানুষ। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেলের দিকে বিরোধী মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার থেকে শুরু করে মানুষের চাকরি ও জীবন—সবকিছুই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৩ বছরের লজ্জা কুড়িয়েছেন ৬ মাসে! সূর্যকুমারকে সরিয়ে শ্রেয়সকে অধিনায়ক করে কি ভুল করেছে BCCI?
মঞ্চ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমার, আপনি ভোট ভ্যানিশ করে দিয়েছেন। আমাদের একটাই কথা, আগে ভ্যানিশ হটাও, তারপর অন্য কাজ।” পশ্চিমবঙ্গেও ভোট লুট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, “আমি হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে।” পাশাপাশি অভিযোগ করেন, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। মমতার বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে এবং ভোটচুরির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ জারি রাখতে হবে। তাঁর সাফ বার্তা, “ভারত বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান।”
এদিনের বক্তব্যে শুধু রাজনৈতিক আক্রমণেই থেমে থাকেননি তৃণমূলনেত্রী। আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। মমতার আহ্বান, আগামী দিনে পড়ুয়া, মহিলা এবং তরুণ প্রজন্মই প্রতিবাদের সামনের সারিতে থাকুক। প্রবীণ নেতৃত্ব তাঁদের পাশে থেকে পথ দেখাবে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায়বিচারের আশায় কষ্ট না পান, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর এই বার্তায় বিরোধী আন্দোলনে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আরও পড়ুন: পরপর ম্যাচ হারলেও সিরিজ জিতেছে ভারত! এবার এই মনছোঁয়া কাজ করে সকলের প্রশংসা কুড়োলেন শ্রেয়স
তবে বিরোধী মঞ্চে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতির মধ্যেই মমতার (Mamata Banerjee) এই আহ্বান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতৃত্ব নিয়ে মমতা ও কংগ্রেসের মধ্যে অতীতে যে টানাপড়েন দেখা গিয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে যুব নেতৃত্বের উপর তাঁর জোর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে একাংশের মতে, বিরোধী রাজনীতিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের পাশাপাশি বিকল্প নেতৃত্বের সম্ভাবনাও সামনে রাখতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী। যদিও তাঁর বক্তব্যের সরাসরি লক্ষ্য কোনও নির্দিষ্ট নেতাকে গুরুত্বহীন করা কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে রামলীলা ময়দান থেকে যুব প্রজন্মকে সামনে রেখে আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক যে বিরোধী রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে, তা বলাই যায়।












