বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে (125 Days Work) শ্রমিকদের মজুরি মেটানো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা চলছিল। সময়মতো টাকা না পাওয়ায় কাজে আগ্রহ হারাচ্ছিলেন অনেক শ্রমিক। এবার সেই সমস্যা মেটাতে বাঁকুড়া জেলায় এল ৪৬ কোটি টাকা। এর ফলে একদিকে যেমন বকেয়া মজুরি মেটানো যাবে, অন্যদিকে আরও বেশি শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করতে পারবে জেলা প্রশাসন।
125 Days Work : বকেয়া মিটিয়ে নতুন করে কাজ শুরুর প্রস্তুতি
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তথা প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক চিরন্তন প্রামাণিক জানিয়েছেন, জেলায় শ্রমিকদের প্রায় ১১ কোটি টাকা মজুরি বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি টাকা শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় সব শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম দফায় কিছু সমস্যার কারণে টাকা পেতে দেরি হলেও আগামী দিনে আর তেমন সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মজুরি খাতে ৪৬ কোটি টাকা পাওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য আরও ৩০ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। বকেয়া মেটানোর পরেও কিছু টাকা হাতে থাকবে। ফলে নতুন করে আরও শ্রমিককে কাজে নেওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নথি যাচাই, ১০ হাজার কর্মীকে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের
উল্লেখ্য, ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে বছরে জবকার্ড থাকা প্রতিটি পরিবারকে ১২৫ দিনের কাজ (125 Days Work) দেওয়ার কথা। অদক্ষ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা। বাঁকুড়ায় গত কয়েক মাসে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার শ্রমিককে কাজ দেওয়া হয়েছে।
জেলায় মোট ১৯০টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। প্রতিটি পঞ্চায়েতের নিরিখে শ্রমদিবস তৈরির ক্ষেত্রে বর্তমানে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাঁকুড়া। একসময় মোট শ্রমদিবস তৈরির হিসেবেও এগিয়ে ছিল এই জেলা। তবে গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। পুজোর সময় অনেকেই কাজে যোগ দেননি। লক্ষ্মীপুজোর পর থেকে অবশ্য ফের কাজ শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, প্রকল্পে টাকার অভাব হবে না বলে সরকার বারবার আশ্বাস দিলেও প্রায় এক মাস আগে পোর্টালে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেশজুড়েই কাজ ব্যাহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় মজুরি দেওয়ার প্রক্রিয়া। টাকা না পাওয়ায় শ্রমিকদের কাজ করার আগ্রহ কমে যায়। ফলে শ্রমিক নিয়োগ এবং প্রকল্পের কাজের গতিও কমেছিল। এবার ৪৬ কোটি টাকা আসায় সেই সমস্যা মিটবে এবং কাজের গতি বাড়বে বলে আশা প্রশাসনের (125 Days Work)।












