মুখ্যমন্ত্রীর মন জয় করল চিংড়ির পিঠে! মতুয়া ঠাকুরবাড়ির এই বিশেষ রান্নার রেসিপি জানুন

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari impressed by Thakurbari's chingri pitha, know the recipe

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কথাতেই আছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। বাঙালির পাতে মাছের তালিকায় ইলিশের পাশাপাশি চিংড়িরও বিশেষ জায়গা রয়েছে। রবিবার ঠাকুরবাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে বসে বাহারি মেনুর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন জয় করে নেয় চিংড়ির পিঠে (Chingri pitha)।

কীভাবে তৈরি হয় মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের চিংড়ির পিঠে (Chingri pitha)?

মুখ্যমন্ত্রীর খাদ্যপছন্দ নিয়ে কৌতূহল বরাবরের। শুভেন্দুর মা গায়ত্রী দেবী একবার জানিয়েছিলেন, ইলিশ মাছ তাঁর ছেলের অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু রবিবারের ভোজে চিংড়ির প্রতি তাঁর আগ্রহও স্পষ্ট হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী তথা বাগদার বিধায়ক মতুয়া ঠাকুরবাড়ির ছোট বউমা সোমা ঠাকুর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রান্নার আয়োজন করেন। মেনুতে ছিল চিংড়ির মালাইকারি, মুরগির মাংস ও খাসির মাংসের মতো একাধিক পদ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর‌ বিশেষ পছন্দ হয় ঠাকুরবাড়ির চিংড়ির পিঠে।

সোমা ঠাকুরের কথায়, “অনেক রকম রান্নাই করেছিলাম দাদা (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু)-র জন্য। চিংড়ির মালাইকারি, মুরগির মাংস, খাসির মাংস— সব ছিল। তবে উনি সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি করে খেয়েছেন আমাদের ঠাকুরবাড়ির বিশেষ রান্না চিংড়ির পিঠা।” বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলে বহুদিন ধরেই এই ধরনের চিংড়ির পিঠে তৈরির রীতি প্রচলিত। ঠাকুরবাড়ির চিংড়ির পিঠে বানাতে প্রয়োজন ৫০০ গ্রাম ছোট বা মাঝারি মাপের চিংড়ি, এক কাপ কোরানো নারকেল বাটা, ২-৩ টেবিল চামচ রসুন বাটা (ইচ্ছা অনুযায়ী), দেড় চা চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো, আধ চা চামচ গোটা জিরে, ৮টি কাঁচালঙ্কা বাটা, ৭টি চৌকো করে কাটা কলাপাতা, ৩-৪ টেবিল চামচ সর্ষের তেল এবং এক চা চামচ হলুদ গুঁড়ো।

CM Suvendu Adhikari impressed by Thakurbari's chingri pitha, know the recipe

প্রথমে চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর চিংড়িগুলি বেটে মিহি করে নিন। একটি বড় পাত্রে এই বাটার সঙ্গে নারকেল বাটা, রসুন বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা, জিরে গুঁড়ো ও হলুদ মিশিয়ে দিন। সবশেষে সর্ষের তেল ঢেলে সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। রসুন ব্যবহার না করতে চাইলে সেটি বাদ দেওয়া যাবে। এবার কলাপাতাগুলিকে হালকা আঁচে সেঁকে নরম করে নিতে হবে। এতে পাতায় মিশ্রণ মুড়ে রাখা সহজ হবে।পাতার গায়ে সামান্য সর্ষের তেল মাখিয়ে নিন। এরপর কড়াইয়ের তলায় চারটি কলাপাতা বিছিয়ে একটি মজবুত আস্তরণ তৈরি করুন। আলাদা একটি তেল মাখানো কলাপাতার উপর চিংড়ির মিশ্রণটি পুরু করে ছড়িয়ে কড়াইয়ে বসিয়ে দিন। উপরে আরও এক বা দু’টি কলাপাতা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

আরও পড়ুন : কলকাতার পার্কিং সমস্যা মেটাতে মাল্টি লেভেল পার্কিং ব্যবস্থা! মউ স্বাক্ষর করে ফেলল রাজ্য

রান্নার সময় আঁচ রাখতে হবে একেবারে কম। কড়াইয়ের মুখ ঢেকে ধীরে ধীরে পিঠেটি সেঁকতে হবে। একদিক ভালোভাবে রান্না হয়ে গেলে সাবধানে উল্টে অন্য দিকটিও একইভাবে তৈরি করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তাড়াহুড়ো করলে ভিতরের অংশ ভালোভাবে রান্না হবে না, তাই ধৈর্য ধরে অল্প আঁচে রান্না করাই এই পদের অন্যতম কৌশল। বরিশালের খাদ্যসংস্কৃতির ছোঁয়া থাকা এই পদ ঠাকুরবাড়ির বিশেষ অতিথি আপ্যায়নের অংশ। এবার মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় সেই পুরনো রান্না নতুন করে নজর কাড়ল।