বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল আমলে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের (Government of West Bengal) মধ্যে বিস্তর টানাপড়েন হয়েছে। তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই গতি পেল এই কাজ। ইতিমধ্যেই ১০০ দিনের কাজের (100 Days Work) বকেয়া মেটানোর তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। গত ২৯ অক্টোবর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের তরফে এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে খবর।
১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটাতে তোড়জোড় রাজ্যের | (Government of West Bengal)
১০০ দিনের কাজের বকেয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ও যাবতীয় সরকারি নথি যাচাইয়ের পরেই যোগ্য প্রাপকদের টাকা মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। এক্ষেত্রে সকল জেলা আধিকারিকদের পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ভুয়ো সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার পাশাপাশি পাওনাদারদের নির্ভুল হিসাব চূড়ান্ত করার কাজও সহজ হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের গাইডলাইন অনুসারে ১০০ দিনের কাজের বকেয়ার সকল নিরীক্ষণ চালানো হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ ও তার আগের বকেয়া খতিয়ে দেখা হবে। কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে নাম থাকলেই প্রাপক হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে খবর। বাস্তবে কতটা কাজ হয়েছে, খরচের সঠিক খতিয়ান আছে কিনা, অন্য কোনও খাতে টাকা সরানো হয়েছিল কিনা সব দেখা হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন’! নভেম্বরের কিস্তির আগেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় বার্তা মন্ত্রীর
নবান্ন সূত্রে আরও খবর, যথাযথ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অনুমোদন ছিল কিনা সেটা দেখতে বলা হয়েছে। এর জন্য ব্লক, জেলা ও রাজ্য মিলিয়ে ত্রিস্তরীয় স্ক্রুটিনি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ব্লক স্তরের যাচাই সম্পন্ন করতে হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জেলা স্তরের অনুসন্ধান ও রিপোর্ট জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য স্তরের যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। সেই অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য স্তরে যাবতীয় তথ্য যাচাই করে ছাড়পত্র দেওয়ার কাজ সেরে ফেলতে হবে। এরপর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ওই বকেয়ার হিসাব গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের শুরুতেই জব কার্ড হোল্ডারদের বকেয়া টাকা ঢুকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল আমলে বহুবার ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটানোর দাবি জানিয়েছেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে খরচের হিসাব না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার তা বন্ধ রেখেছিল। এবার এই বকেয়া মেটানোর লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নেমে পড়ল নতুন রাজ্য সরকার।












