স্কুলছাত্রীকে করাত দিয়ে হামলা, পালানোর চেষ্টা করতেই অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে গুলি পুলিশের

Published on:

Published on:

Major turn of events in the case involving an attack on a schoolgirl in Andhra Pradesh

বাংলা হান্ট ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) অনন্তপুরে ১৫ বছরের এক স্কুলছাত্রীর উপর বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এবার বড় মোড়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক হেমন্ত (Hemant Dummu) ওরফে ডুম্মুকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে পুলিশ (Andhra Pradesh Police)। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিযুক্ত। এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশজুড়ে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্ধ্র প্রদেশে (Andhra Pradesh) স্কুলছাত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় বড় মোড়

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় অনন্তপুর জেলার আত্মাকুর জঙ্গলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে হেমন্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল। এরপর তাকে সেখান থেকে রাপ্তাডুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শনিবার যে সরকারি স্কুলে নাবালিকার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানেই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল তদন্তকারীদের। সেই মতো অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। অভিযোগ, সেই সময় সুযোগ বুঝে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে হেমন্ত। শুধু তাই নয়, পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে সে। এই ঘটনায় কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এগিয়ে গেলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার স্বার্থে অভিযুক্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি (Andhra Pradesh)।

আরও পড়ুন: এক বাসে চেপে মায়াপুর থেকে তারাপীঠ! SBSTC-এর নতুন বাসের টাইমটেবিল ও ভাড়া জানুন

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে থামাতে পুলিশ মোট ছয় রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরই গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যে ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে অভিযুক্তকে প্রায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে গোটা ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি এবং পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তদন্তের পর আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে, এই এনকাউন্টারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাবালিকার উপর হামলার ঘটনাটি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। কী কারণে এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে অনন্তপুরের একটি সরকারি স্কুলে ক্লাস চলাকালীন বৈদ্যুতিক করাত নিয়ে ঢুকে পড়ে হেমন্ত। অভিযোগ, এরপর আচমকাই ১৫ বছরের এক ছাত্রীর উপর হামলা চালায় সে। ওই ছাত্রীর মুখ ও গলায় করাত দিয়ে আঘাত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। আচমকা এই ঘটনায় স্কুলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্য এক ছাত্রীও আহত হয়। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হেমন্ত। আহত দুই পড়ুয়ার মধ্যে আক্রান্ত নাবালিকার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে খবর। স্কুলের মতো নিরাপদ জায়গায় এমন হামলার ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Major turn of events in the case involving an attack on a schoolgirl in Andhra Pradesh

আরও পড়ুন: সিরিয়াল নম্বর ৮, বকেয়া DA মামলার সুপ্রিম শুনানি নিয়ে সরকারি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কনফেডারেশনের

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হেমন্ত ওরফে ডুম্মু শ্রী সত্য সাই জেলার নাগালুর এলাকার বাসিন্দা। সে অনন্তপুরে তার বড় বোনের সঙ্গে থাকত। আক্রান্ত নাবালিকা সম্পর্কে তার ভাগনি হয়। পরিবারের তরফে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই কিশোরীকে বিরক্ত করছিল অভিযুক্ত। তাকে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছিল সে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাগের বশে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই নৃশংস হামলার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। এবার পুলিশের গুলিতে অভিযুক্ত গুরুতর আহত হওয়ায় মামলার তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।