বাংলা হান্ট ডেস্ক : চার দিন ধরে বরফে ঢাকা পাহাড়ের বুকে নিখোঁজ আটজন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযানের উপর নজরদারি বাড়িয়ে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। উত্তরাখণ্ডের কেদারতাল থেকে এখনও আসেনি কোনও আশার খবর। কখনও তুষারঝড়, কখনও ধস—প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে উদ্ধারকারীরা পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন দুর্গম এলাকায়।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
নিখোঁজদের সন্ধানে উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেদারতালের এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে বাঁকুড়ার পাঁচ তরুণের কোনও খোঁজ না মেলায় তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “উত্তরাখণ্ডে প্রবল তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে কেদারতাল ট্রেকে গিয়ে নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ তরুণ ট্রেকার রিন্টু মণ্ডল, উদয় ঘোষ, রতন ঘোষ, তাপস বাউড়ি এবং মনোজ খোয়াস। তাঁদের খোঁজ না মেলায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। উদ্ধার অভিযানের প্রতিটি পর্যায়ের খবর যাতে রাজ্যের কাছে পৌঁছয়, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার উত্তরাখণ্ড সরকার এবং সেখানকার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF)-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দিল্লিতে রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনারের দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মাধ্যমে উদ্ধারকাজের প্রতিটি আপডেট নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দ্রুত খুঁজে বার করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে জোরকদমে তল্লাশি চলছে। উদ্ধারকাজে যাতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় থাকে, সে জন্য রাজ্য পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) এবং বাঁকুড়ার পুলিশ সুপারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা উত্তরাখণ্ডের SDRF, স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। পাশাপাশি, বাঁকুড়ায় নিখোঁজ ট্রেকারদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে রাজ্য প্রশাসন।”

নিখোঁজদের পরিজনদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “এই বিপদের সময়ে রাজ্য সরকার তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছে। পাঁচ তরুণকে দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি।” জানা যাচ্ছে, গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সাতজন ট্রেকার ও ছজন সহায়ক কর্মী। সব মিলিয়ে দলে সদস্য ছিলেন ১৩ জন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুদিন পর অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। প্রবল তুষারপাতের জেরে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আটকে পড়েন। ৩০ অক্টোবর বিপদের কথা জানিয়ে ট্রেকিং সংস্থার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন দলের সদস্যরা।
আরও পড়ুন : নবান্নের নয়া নির্দেশিকা, পুরোনো নিয়ম বদলে যাচ্ছে ৩ নভেম্বর থেকে
কাচি ধাং এলাকার কাছে তাঁদের অবস্থান বলে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য পাঠানোর আবেদন জানান তাঁরা। এরপর আটকে পড়া দলটির কাছে পৌঁছনোর জন্য কয়েকজন পোর্টার ও গাইডকে পাঠায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাঁদের কাজ ছিল বরফ সরিয়ে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করা। পরে ওই এলাকা থেকে চারজন সহায়ক কর্মীকে খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পোর্টার এবং একজন রাঁধুনি ছিলেন।
এরই মধ্যে ভোজখাড়াকের কাছে নতুন করে ধস নামায় উদ্ধার অভিযানের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আটজন। সোমবার সন্ধ্যায় আবহাওয়া আরও প্রতিকূল হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীদের অভিযান থামাতে হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল তুষারপাতের মধ্যে দুর্গম পাহাড়ি পথে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। তাই পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। একদিকে প্রতিকূল প্রকৃতি, অন্যদিকে আটটি পরিবারের উৎকণ্ঠা—কেদারতালের এই ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।












