বেতন বৃদ্ধির আগে এবার শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাই করবে রাজ্য সরকার

Published on:

Published on:

West Bengal government will now verify teachers' qualifications

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় এবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে নতুন সরকার (West Bengal Government)। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্ষেত্রের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের বেতন নিয়ে অসন্তোষ জমে থাকলেও, তাঁদের আর্থিক দাবি বিবেচনার আগে নিয়োগের সময় নির্ধারিত শিক্ষাগত মাপকাঠি মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের নথিপত্র পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের যাচাই করবে সরকার (West Bengal Government)

২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে বামফ্রন্ট সরকারের সময় রাজ্যের বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। এত বছর পর তাঁদের নিয়োগের সময়কার যোগ্যতার শর্তগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখতে চাইছে বর্তমান সরকার। বিশেষত, সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার জন্য যে ধরনের শিক্ষাগত ও কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল, নিয়োগপ্রাপ্তরা তা সম্পূর্ণ করেছিলেন কি না, সেটাই যাচাইয়ের মূল বিষয়।

তৎকালীন নিয়োগবিধিতে কাজের দায়িত্ব অনুযায়ী যোগ্যতার মাপকাঠিও আলাদা ছিল। স্বল্পমেয়াদি বৃত্তিমূলক কোর্সের প্রশিক্ষকদের অন্তত উচ্চমাধ্যমিক পাশ হতে হত। পাশাপাশি, এনসিভিটি অনুমোদিত কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে কারিগরি শিক্ষার নির্দিষ্ট কোর্স করার শর্তও ছিল। আবার উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের পড়ানোর দায়িত্ব যাঁদের ছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে অনার্স-সহ স্নাতক ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

West Bengal government will now verify teachers' qualifications

এদিকে, এই শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আসছেন। স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের অনেকেই মাসে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান। বিজেপি সরকার আসার পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন পদে বেতন সংশোধন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : চোরবাগানের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা! কালীপুজোর মন্ডপে মন্ডপে ‘ইভাকুয়েশন প্ল্যান’

সেই পরিস্থিতিতে কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও একই ধরনের সুবিধার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার যোগ্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এই কাজের জন্য রাজ্য কারিগরি শিক্ষা দপ্তর ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের নথি জমা দিতে হবে, তা ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ নভেম্বর থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজে এই যাচাই পর্ব চলবে। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে দুই ধাপে। প্রথমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে জমা করতে হবে। অনলাইনে নথি পাঠানোর পর নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে আসল সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সেখানেই মূল নথির সঙ্গে আপলোড করা শংসাপত্র মিলিয়ে দেখে সত্যতা যাচাই করা হবে। তবে এই উদ্যোগের ফলে বৃত্তিমূলক শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মরত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান কতটা এগোবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।