নতুন রূপ পেতে চলেছে রবীন্দ্র সরোবরের দুর্গা মিউজিয়াম, কী কী বদল আনছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর?

Published on:

Published on:

Rabindra Sarobar Museum Renovation by West Bengal Government

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা শিল্প ও ঐতিহ্য। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে রবীন্দ্র সরোবরের ‘মা ফিরে এলো’ সংগ্রহশালাকে নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। শুধু দুর্গাপ্রতিমা সংরক্ষণ নয়, এবার রবীন্দ্র সরোবরের পুরনো ইতিহাস এবং সেখানকার জীববৈচিত্র্য নিয়েও তৈরি হবে আলাদা আর্কাইভ।

সংগ্রহশালায় কী কী নতুন ব্যবস্থা আনছে রাজ্য (West Bengal Government)?

রবীন্দ্র সরোবরের এই সংগ্রহশালায় বর্তমানে কলকাতার বিভিন্ন পুজো কমিটির কাছ থেকে আনা ১২টি পুরস্কারপ্রাপ্ত দুর্গাপ্রতিমা রয়েছে। ২০১২ সালে তৈরি হয়েছিল এই সংগ্রহশালা। উদ্দেশ্য ছিল, কলকাতার সেরা প্রতিমাগুলিকে স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়া, যাতে দেশ-বিদেশের মানুষ বাংলার প্রতিমা তৈরির শিল্প দেখতে পারেন। কিন্তু এত বছরেও জায়গাটি সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।

এবার সংগ্রহশালার চেহারা বদলাতে বেশ কিছু কাজ করা হবে। গ্যালারিতে নতুন আলো বসানো হবে, মেঝে ও আশপাশের পোড়ামাটির টাইলস বদলে বিষ্ণুপুরের নতুন টাইলস লাগানো হবে। ছাদের কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি ভিতরে ও খোলা জায়গায় থাকা প্রতিমাগুলিতে পালিশ করা হবে। এর ফলে প্রতিমাগুলি আরও উজ্জ্বল দেখাবে এবং দর্শনার্থীদের ঘুরে দেখতেও সুবিধা হবে।

আরও পড়ুনঃ আটকের পরেও মানতে হবে ২৪ ঘণ্টার নিয়ম, পুলিশের জন্য কড়া নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

এই সংস্কারের জন্য প্রাথমিক খরচের হিসাব তৈরি হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রস্তাবেও অনুমোদন মিলেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এই নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু করে কয়েক মাসের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, রবীন্দ্র সরোবরের ইতিহাস তুলে ধরতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরোবরের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি স্কুলবাড়িকে আর্কাইভে পরিণত করা হবে। সেখানে ১৯২০-এর দশকে সরোবর খননের কাজ শুরুর পর থেকে তার নানা পরিবর্তনের কথা তুলে ধরা হবে। এছাড়াও সরোবরের ১০০-র বেশি প্রজাতির পাখি, স্তন্যপায়ী ও জলজ প্রাণী সম্পর্কে তথ্য থাকবে।

এই আর্কাইভ তৈরির জন্য স্কুলবাড়িটির সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আর্কাইভের পরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা। ফলে দুর্গাপ্রতিমার সংগ্রহশালার পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবরের ইতিহাস ও পরিবেশ সম্পর্কেও জানার সুযোগ তৈরি হবে (West Bengal Government)।