‘সিঙ্গুরকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা’, ১৫ বছর পর শিল্প ফেরানোর ইঙ্গিত শুভেন্দুর!

Published on:

Published on:

Suvendu Adhikari Announces New Singur Industry Plan

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ একসময় সিঙ্গুরকে ঘিরেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছিল। টাটাদের কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের পর আন্দোলনের জেরে সেই জমি মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৫ বছর। সেখানে নতুন করে শিল্পও গড়ে ওঠেনি, চাষবাসও আগের মতো শুরু হয়নি। এবার সেই সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার দিন তিনি জানালেন, অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে ৬৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে।

সিঙ্গুরে কী পরিকল্পনা সরকারের (Suvendu Adhikari)?

বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় সিঙ্গুর নিয়ে তিনি বলেন, সিঙ্গুরের কথা তাঁর মাথায় রয়েছে। সেখানে কিছু একটা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গেও কথা চলছে বলে জানান তিনি। তবে সেখানে ঠিক কী ধরনের কারখানা তৈরি হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। গাড়ি শিল্প ফিরবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

Supreme Court Upholds Calcutta HC Order in Singur Tata Motors Compensation Case

গত ১৫ বছরে রাজ্যে শিল্পের অভাব এবং কাজের সুযোগ কম থাকায় বহু শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে নতুন শিল্প নিয়ে আসাই বিজেপি সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার ইকো পার্ক থেকে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। নতুন নীতিতে জমি অধিগ্রহণের নিয়মে বদল আনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ২০৫টি বিএড কলেজে আর ভর্তি নয়! আইটিআই ও ফার্মা নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

নতুন শিল্পনীতিতে ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে ইনসেনটিভ দেওয়া হবে। বিদ্যুতের শুল্ক এবং স্টাম্প ডিউটিতেও ছাড় মিলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বড় শিল্প, অলাভজনক সংস্থা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের সংস্থাগুলিও এই সুবিধার আওতায় থাকবে।

জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো জোর করে অধিগ্রহণের বদলে জমির মালিকদের কাছ থেকে বাজারদরে সরাসরি জমি কেনার পক্ষে সরকার। নতুন জমিনীতি মেনে কীভাবে এই কাজ হবে, তার বিস্তারিত নিয়মও জানানো হয়েছে।

এছাড়া, অনলাইনে শিল্পের প্রস্তাব জমা পড়ার পর ১০৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই বিনিয়োগকারীরা কারখানা তৈরির কাজ শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং লোকসানে চলা রুগ্ন শিল্পগুলিকে আবার চালু করার দিকেও নজর দেবে সরকার (Suvendu Adhikari)। ফলে নতুন শিল্পনীতির হাত ধরে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরে কি না, এখন সেটাই দেখার।