কাকার শেষকৃত্যে যাওয়ায় অনুপস্থিত রাহুলের সভায়! যুবনেতাকে বরখাস্ত করে সমালোচনার মুখে কংগ্রেস

Published on:

Published on:

Indian National Congress has expelled a youth leader of the party for his absence from Rahul's rally

বাংলাহান্ট ডেস্ক:  নিজের কাকার শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে দিল্লির (Delhi) রামলীলা ময়দানে (Ramleela Maidan) কংগ্রেসের (Indian National Congress) সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। আর সেই ‘অপরাধেই’ দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হল মধ্যপ্রদেশের যুব কংগ্রেস নেতা রোহিত রাজোরিয়াকে। এমনই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছে কংগ্রেসের যুব শাখা। রোহিতের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দলের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এমনকী জেলেও যেতে হয়েছে কয়েক বার। অথচ একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারার কারণে তাঁকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের মতে, একজন নেতার পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক।

রামলীলা ময়দানে রাহুলের সভায় অনুপস্থিত থাকায় দলের যুবনেতাকে বহিষ্কার করল কংগ্রেস (Indian National Congress)

ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিরোধী জোটের সভাকে কেন্দ্র করে। রবিবার সেখানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস (Indian National Congress) সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের একাধিক প্রথম সারির নেতা। কংগ্রেসের দাবি, ওই কর্মসূচিতে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়েছিল। যদিও বিজেপি এই দাবি মানতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, সভায় বিপুল জনসমাগম দেখানোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভিড়ের ছবি তৈরি করছে কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সভায় অনুপস্থিত থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন:বিশ্ববাজারে ভারতের অস্ত্রের দাপট! আর্মেনিয়ায় ১,০০০ গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠাল ভারত

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামলীলা ময়দানের সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণে ইতিমধ্যেই সাতটি রাজ্যের অন্তত ১৮৫ জন কংগ্রেস নেতা ও কর্মীকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে অনুপস্থিতির কারণ জানাতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সংখ্যা ভবিষ্যতে বেড়ে ৫০০ ছাড়াতে পারে। বাংলার কয়েক জন যুব কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে খবর। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের অনুপস্থিতি সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে দেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুব কংগ্রেসের অন্দরেই অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন, কোনও নেতা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই কি এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত?

 

সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে রোহিত রাজোরিয়ার বহিষ্কারের ঘটনা। যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা রোহিতের দাবি, তিনি আগে থেকেই দলের নেতৃত্বকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন। কাকার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়ার কারণে দিল্লিতে পৌঁছনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না, সে কথাও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি বহিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিত জানান, প্রায় দেড় দশক ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। তিন-চার বার জেলেও যেতে হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে কাকার শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার প্রমাণও দেখিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, দলের জন্য এত কিছু করার পরেও একটি সভায় অনুপস্থিত থাকার কারণে এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন।

Indian National Congress has expelled a youth leader of the party for his absence from Rahul's rally

আরও পড়ুন: নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প ধাক্কা পেতেই অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন! কতটা লাভবান হবে ভারত?

এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কংগ্রেসের (Indian National Congress) সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একদিকে রামলীলা ময়দানের সভাকে বিরোধী ঐক্যের বড় শক্তিপ্রদর্শন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস, অন্যদিকে সেই সভায় কারা উপস্থিত ছিলেন আর কারা ছিলেন না, তা নিয়েই দলের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যে কোনও দলের সাংগঠনিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, তা ঠিক। কিন্তু পারিবারিক শোকের মতো পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনার প্রয়োজন ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। রোহিতের বহিষ্কারের ঘটনাটি তাই শুধু একজন যুব নেতার শাস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কংগ্রেসের অন্দরে শৃঙ্খলা বনাম মানবিকতার বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।