বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বের প্রতিরক্ষা বাজারে ক্রমশ নিজের জায়গা শক্ত করছে ভারত (India)। একসময় বিদেশ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনার উপর নির্ভর করতে হত যে দেশকে, এখন সেই ভারতই একের পর এক দেশকে আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। সেই তালিকায় এবার আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আর্মেনিয়ায় (Armenia) ১,০০০টি গাইডেড পিনাকা রকেট (1000 Guided Pinaka Rocket) পাঠাল ভারতের বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (SDAL)। ভারতের তৈরি এই অত্যাধুনিক রকেটের প্রথম চালান বিদেশে রফতানি হওয়াকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও যে ভারত প্রতিযোগিতায় নামতে পারছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
আর্মেনিয়ায় ১,০০০ গাইডেড পিনাকা রকেট পাঠাল ভারত (India):
পিনাকা রকেট ব্যবস্থা তৈরি করেছে ভারতের (India) প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এটি একটি মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার ব্যবস্থা, যার সাহায্যে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করা যায়। এর গাইডেড সংস্করণে যুক্ত হয়েছে উন্নত দিকনির্দেশক প্রযুক্তি। ফলে শুধু দূরপাল্লায় আঘাত হানাই নয়, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে আরও নিখুঁতভাবে নিশানা করাও সম্ভব। এই রকেটের পাল্লা ৭০ কিলোমিটারের বেশি। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের অবস্থান, সামরিক ঘাঁটি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষেত্রে এটি বিশেষ কার্যকর হতে পারে। সাধারণ পিনাকা রকেটের তুলনায় গাইডেড সংস্করণে লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা অনেক বেশি। ফলে আর্মেনিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: মহাকাশে ভারতের চমক! NVS-03 কক্ষপথে পৌঁছতেই পূর্ণ শক্তিতে সচল দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা NavIC
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ভারতের সঙ্গে পিনাকা রকেট ব্যবস্থা কেনার চুক্তি করে আর্মেনিয়া। এর মধ্য দিয়েই এই দেশটি ভারতের তৈরি পিনাকার প্রথম বিদেশি ক্রেতা হয়ে ওঠে। প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শুধু রকেট নয়, চারটি পিনাকা রকেট লঞ্চার সিস্টেমের ব্যাটারি, গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও সরবরাহ করার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আনগাইডেড বা দিকনির্দেশনাবিহীন পিনাকা রকেট পাঠানো শুরু হয় ২০২৩ সালে। সেই সরবরাহ ২০২৪ সালের শেষের দিকে সম্পূর্ণ হয়। এবার ১,০০০টি গাইডেড রকেটের চালান পৌঁছনোয় চুক্তির আওতায় আর্মেনিয়ার হাতে আরও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোল।
এই রকেটগুলি তৈরি হচ্ছে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে সোলার গ্রুপের কারখানায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ওই কারখানা থেকেই পিনাকা রকেটের প্রথম চালান রপ্তানির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের পর এবার ১,০০০টি গাইডেড রকেট পাঠানোর ঘটনা ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার দিকটিও সামনে আনছে। এত দিন অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির উপর নির্ভরতা ছিল। কিন্তু এখন বেসরকারি সংস্থাগুলিও উন্নত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। সোলার ডিফেন্সের এই সাফল্য সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

আরও পড়ুন: ‘সিঙ্গুরকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা’, ১৫ বছর পর শিল্প ফেরানোর ইঙ্গিত শুভেন্দুর!
সব মিলিয়ে, আর্মেনিয়ায় পিনাকা রকেট রপ্তানি ভারতের (India) প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ। পাশাপাশি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদনের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের পথেও এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এবার গাইডেড পিনাকার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র বিদেশে পাঠানোয় আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভারত এখন আর শুধু অস্ত্র আমদানিকারী দেশ হিসেবে পরিচিত থাকতে চায় না, বরং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি রপ্তানিকারী দেশ হিসেবেও নিজের পরিচিতি তৈরি করছে। আর্মেনিয়ায় এই চালান সেই লক্ষ্যপূরণের পথে আরও এক বড় পদক্ষেপ।












