অভিষেকের গ্রেফতারি কি শুধু সময়ের অপেক্ষা! কী বার্তা দিলেন শান্তনু?

Published on:

Published on:

Shantanu Thakur's big comment on Abhishek Banerjee

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত। একদিকে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে রাতভর উত্তেজনা, অন্যদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব শীঘ্রই জেলে যেতে হবে বলে দাবি করলেন শান্তনু ঠাকুর।

অভিষেক প্রসঙ্গে শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur)

বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের কাছে কল্যাণী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল। বিভিন্ন সরকারি কাজ কিংবা সাংসদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁদের বনগাঁ পর্যন্ত ছুটতে হত। সেই অসুবিধা কমাতেই এবার কল্যাণীতে পৃথক কার্যালয় চালু করলেন তিনি।উল্লেখ্য, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন শান্তনু। শনিবার কল্যাণীর নিমতলা এলাকায় জুডিও শপিংমলের কাছেই নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য। কালীঘাটের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ উঠতেই শান্তনুর দাবি, অভিষেকের বিরুদ্ধে শীঘ্রই বড় পদক্ষেপ করা হতে পারে এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হবে।‌

Shantanu Thakur's big comment on Abhishek Banerjee

উল্লেখ্য, ৭ নভেম্বর ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের বাইরে অনুগামীদের ভিড় জমেছিল। অভিযোগ, ওই সময় বিজেপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক কালীঠাকুর আনতে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এরপর অভিষেককে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেওয়া এবং তাঁর প্রচারমূলক ব্যানার ও কাটআউট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা প্রতিবাদ জানালে বিবাদ হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়।

আরও পড়ুন :ফাটাকেষ্টর মা কালীর জন্য বহুমূল্য উপহার, পরে সেই উপহারের কী হয় জানেন?

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে অনুগামীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। তাঁকে সামনে পেয়ে ফের স্লোগান শুরু হয়। পালটা আওয়াজও ওঠে অন্য পক্ষের তরফে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তার কারণে বাড়ির ভিতরে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও অভিষেক বাইরে ছিলেন। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁর সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।

শুক্রবার রাতের ঘটনার রেশ শনিবারও কালীঘাটে বজায় ছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অভিষেকের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর আরও বেড়েছে। তার মধ্যেই অভিষেকের সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।