পণের লোভ! অন্তঃসত্ত্বা মহিলা কমান্ডোকে ডাম্বেলের আঘাতে ‘খুন’ করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে কর্মরত স্বামী

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: পণপ্রথার বিষ যে সমাজের গভীরতম স্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে, তারই আরও এক নির্মম প্রমাণ সামনে এল রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi)। পণের দাবিকে কেন্দ্র করে স্বামীর হাতে খুন হতে হল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ওয়েপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিস বা সোয়াট ইউনিটের মহিলা কমান্ডো কাজল চৌধরিকে। অভিযোগ, ডাম্বেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং দেওয়ালে মাথা ঠুকে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কাজলের স্বামী অঙ্কুর চৌধরিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দিল্লিতে (New Delhi) পণের দাবিতে ‘খুন’  সোয়াট কমান্ডো মহিলাকে

দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত অঙ্কুর চৌধুরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে কর্মরত। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির দ্বারকা মোড় এলাকায় থাকতেন ওই দম্পতি। ২০২৩ সালে কাজল ও অঙ্কুরের বিয়ে হয়। তাঁদের দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি আবার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন কাজল। চার মাসের গর্ভাবস্থাতেই এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার হতে হল তাঁকে, যা সমাজে নারীর নিরাপত্তা ও পণপ্রথার ভয়াবহতার প্রশ্ন আরও জোরালোভাবে সামনে আনছে।

আরও পড়ুন: অভাবের কারণে বাদ পড়েন স্কুল থেকে! আজ ২৩০ জন শিশুকে বিনামূল্যে পড়াচ্ছেন ২১ বছরের আদিত্য

নিহত কাজলের ভাই নিখিল, যিনি নিজেও দিল্লি পুলিশের কনস্টেবল, অভিযোগ করেছেন যে বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিকে কেন্দ্র করে কাজলকে লাগাতার হেনস্থা করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, শুধু অঙ্কুরই নয়, শাশুড়ি ও ননদেরাও পণের জন্য নানা ভাবে চাপ দিতেন। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসিক অত্যাচারও চলত নিয়মিত। আর্থিক বিষয় নিয়েই দাম্পত্য কলহ ক্রমশ ভয়াবহ আকার নেয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি দম্পতির মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছায়। সেই সময় প্রথমে ডাম্বেল দিয়ে কাজলের মাথায় আঘাত করা হয়। তার পর তাঁকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিখিলের দাবি, ঘটনার পরে অঙ্কুর নিজেই মারধরের কথা স্বীকার করেছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কাজলকে পরিবারের লোকেরাই উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।

A female SWAT commando was 'murdered' in Delhi over dowry demands.

আরও পড়ুন:শুল্কের বোঝা সামলে দ্রুত ঘুরছে ভারতের অর্থনীতির চাকা! লোকসভায় রিপোর্ট পেশ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

ঘটনার পরই অঙ্কুর চৌধুরিকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এক জন প্রশিক্ষিত কমান্ডো, যিনি প্রতিদিন অন্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাতেন, তাঁকেই নিজের ঘরের মধ্যে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে হল—এই ঘটনা ফের একবার পণপ্রথা ও গৃহহিংসার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে।