বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরের দর্শনকেই অনুপ্রেরণা করে বাস্তবে রূপ দিয়ে এক অন্যরকমের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) লিখে চলেছেন আদিত্য নামের এক তরুণ। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে বদলে তিনি আজ শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসী মানুষ হয়ে উঠতে পারে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে। আদিত্যের এই উদ্যোগ শুধু সহানুভূতির গল্প নয়, বরং লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
আদিত্য গুপ্তার অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
আদিত্যের জীবনপথ মোটেও সহজ ছিল না। ফি দিতে না পারার কারণে তাঁকে একসময় স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছিল। পরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাধ্য হয়ে স্কুলছুট হন তিনি। অথচ শিক্ষার প্রতি টান কখনও হারাননি। আজ সেই আদিত্যই তিনটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন, যেখানে প্রায় ২৩০ জন শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা করানো হয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিশুরা এখানে একসঙ্গে শিক্ষা নিচ্ছে, যা শিক্ষার মাধ্যমে সমতার বার্তাই তুলে ধরছে।
আরও পড়ুন: শুল্কের বোঝা সামলে দ্রুত ঘুরছে ভারতের অর্থনীতির চাকা! লোকসভায় রিপোর্ট পেশ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর
সম্প্রতি এক ব্লগারের করা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে আদিত্যের এই কর্মকাণ্ড উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির মধ্যেই শতাধিক শিশু মন দিয়ে পড়াশোনা করছে এবং তাদের পড়াচ্ছেন মাত্র ২১ বছর বয়সি আদিত্য। এই কোচিং সেন্টারগুলিতে শুধু বইয়ের পাঠ নয়, শারীরিক ব্যায়াম ও শৃঙ্খলার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিডিওতে নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে আদিত্যের চোখেমুখে আবেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কীভাবে এই উদ্যোগের শুরু, তা বলতে গিয়ে আদিত্য জানান, গ্রামের রাস্তায় বেরোলেই তিনি শিশুদের জুয়া খেলতে দেখতেন। তখনই তাদের পড়াশোনার দিকে ফেরানোর কথা ভাবেন তিনি। শিশুদের বোঝান, পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। তিনি আরও জানান, কয়েকজন শিশুর বেসরকারি স্কুলের ফিও তাঁদের তহবিল থেকেই দেওয়া হয়। তাঁর কাছে পড়া এক ছাত্রী জানায়, সে একদিন আইএএস অফিসার হতে চায় এবং পড়াশোনার মাধ্যমে মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চায়।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের শান্তি কমিটিতে পাকিস্তানের এন্ট্রি! নেটদুনিয়ায় উঠল হাসির রোল
View this post on Instagram
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আদিত্য বলেন, তিনি এমন একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল গড়তে চান, যেখানে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও জোর দেওয়া হবে। তাঁর বিশ্বাস, শিশুদের কখনওই নিজের স্বপ্নের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। উল্লেখ্য, এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে @sidiously_ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৯৬ হাজারের বেশি লাইক পেয়েছে। মন্তব্যের ঘর ভরে উঠেছে প্রশংসায়—একজন লিখেছেন, “আদিত্য সত্যিকারের জীবনের সুপারহিরো।”












