করতে পারলেন না সরকারি চাকরি! পরীক্ষায় পাশ করার ১৮ বছর পর অফার লেটার পেলেন ৬১ বছরের বৃদ্ধ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সরকারি চাকরি (Government Job) পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন অসংখ্য যুবক-যুবতী। কেউ পরীক্ষায় সফল হন, কেউ আবার অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর গুনতে গুনতে হতাশ হয়ে পড়েন। তবে কেরলের মলপ্পুরম জেলার এক ব্যক্তির জীবনে যা ঘটেছে, তা শুধু বিস্ময়করই নয়, প্রশাসনিক গাফিলতির এক বিরল উদাহরণ হিসেবেও সামনে এসেছে। আব্দুল মজিদ নামে ওই ব্যক্তি প্রায় দুই দশক আগে সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধাতালিকায় স্থানও পেয়েছিলেন। কিন্তু চাকরির নিয়োগপত্র তাঁর হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে কেটে গিয়েছে ১৮ বছর। এমনকি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি অবসরের বয়সসীমাও অতিক্রম করে ফেলেছেন। সম্প্রতি তাঁর কাছে পৌঁছনো একটি নিয়োগপত্র ঘিরেই এই ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

১৮ বছর পর সরকারি চাকরির (Governnment Job) অফার লেটার পেলেন কেরালার আব্দুল

জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে পার্ট-টাইম জুনিয়র শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন আব্দুল মজিদ। লিখিত পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তিনি সফলও হন। মেধাতালিকায় নাম ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি চাকরির (Government Job) আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সেই প্রতীক্ষার কোনও ফল মেলেনি। বছর কেটে যায়, কিন্তু নিয়োগপত্র আর আসে না। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ তালিকার মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে সরকারি চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন মজিদ। জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে অন্য পথেই এগিয়ে যান তিনি। এতদিন পর আর সেই নিয়োগের বিষয়ে কোনও সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ভাবেননি।

আরও পড়ুন: আরও শক্তি বাড়বে সেনার! পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়ে ১৭,০০০ কোটির মিলিটারি ড্রোন কিনতে চলেছে ভারত

কিন্তু সম্প্রতি ডাকযোগে একটি সরকারি চিঠি তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। সাধারণ চিঠি ভেবে খাম খুলতেই বিস্মিত হয়ে যান তিনি। দেখা যায়, সেটি তাঁর চাকরিতে নিয়োগের চিঠি। প্রায় ১৮ বছর আগে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই তাঁকে চাকরিতে যোগদানের জন্য ডাকা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় পরে এমন চিঠি হাতে পেয়ে প্রথমে তিনি হতবাক হয়ে যান। কারণ বর্তমানে তাঁর বয়স ৬১ বছর, যা সংশ্লিষ্ট চাকরির অবসরের বয়সসীমারও বেশি। ফলে বাস্তবে ওই চাকরিতে যোগ দেওয়ার কোনও সুযোগই আর তাঁর সামনে নেই। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আব্দুল মজিদ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘১৮ বছর ধরে ওই পদটি শূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। যদি সময়মতো নিয়োগপত্র পেতাম, তাহলে আমার জীবন হয়তো অন্যরকম হতে পারত। এখন আমার বয়সসীমা পার হয়ে গিয়েছে। ফলে আমার প্রাপ্য চাকরিটি আর কোনওদিনই পাওয়া সম্ভব নয়।’’ তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন একটি চিঠি পাওয়া যেমন বিস্ময়কর, তেমনই তা তাঁর কাছে বেদনারও। কারণ এটি তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছে, কীভাবে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

A Kerala man got the Government Job letter after 18 years at the age of 61 years age.

আরও পড়ুন: কম পারিশ্রমিকে পড়ানোতেই ক্ষোভ? খান স্যারের কোচিংয়ের বাইরে আচমকাই গুলি, আহত নিরাপত্তারক্ষী

এই ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একটি সরকারি নিয়োগপত্র পৌঁছতে ১৮ বছর সময় লাগতে পারে। প্রশাসনিক অব্যবস্থা, নথিপত্র সংরক্ষণের ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণ—তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। তবে ঘটনাটি সরকারি নিয়োগ (Government Job) ব্যবস্থার নানা দুর্বলতাকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন ঘটনা শুধু একজন প্রার্থীর ক্ষতিই নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে। আব্দুল মজিদের ঘটনা তাই শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত আক্ষেপের গল্প নয়, বরং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কেরও সূচনা করেছে।