বাংলাহান্ট ডেস্ক: আম আদমি পার্টির অন্দরে ফাটল আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দল ছেড়ে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা ঘিরে গুঞ্জনের মধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে পাঞ্জাবের আপ সরকার। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে তাঁর জন্য জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা গোটা ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) নিরাপত্তা তুলে নিল আপ সরকার!
এতদিন পর্যন্ত রাঘব চাড্ডার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পাঞ্জাব পুলিশ। হঠাৎ করেই সেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সদর দপ্তরে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁর জন্য আধাসামরিক বাহিনীসহ জেড ক্যাটাগরির সুরক্ষা নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, নতুন নিরাপত্তা পুরোপুরি মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত দিল্লি পুলিশকে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: নীতীশ যুগের অবসান, শপথ নিলেন বিহারে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরী
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতেই, নিরাপত্তা বদলের পিছনে শুধুমাত্র নিরাপত্তাজনিত কারণ নয়, বরং বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কাঠামোতে চাড্ডার ভূমিকা কমে যাওয়া এবং তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এই ঘটনাগুলিও সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। তাঁর জায়গায় অশোককুমার মিত্তলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলের তরফেও চাড্ডাকে নিয়ে অস্বস্তির ইঙ্গিত স্পষ্ট। আপ নেত্রী প্রিয়াঙ্কা কক্কর অভিযোগ করেছেন, চাড্ডার সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ রয়েছে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই সম্ভাব্য রাজনৈতিক বোঝাপড়ারই অংশ। এমনকি, অশোক মিত্তলের সম্পত্তিতে ইডি হানার পিছনেও চাড্ডার ভূমিকা থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেছেন, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সঙ্কটের পর এবার আর্থিক সঙ্কট! বাংলাদেশের চাই ৩০০ কোটি ডলারের ঋণ
অন্যদিকে, রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনিও দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ভিতরে তাঁকে ক্রমশ গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁর কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তিনি বা বিজেপির কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি, তবুও গোটা পরিস্থিতি পাঞ্জাব ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












