বাংলাহান্ট ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় স্তরে আলোচনায় উঠে আসা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) এবার নতুন সামাজিক কর্মসূচির ঘোষণা করলেন। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) আপাতত পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং সংগঠনটি মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা সরাসরি জানার জন্য দেশজুড়ে ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ শুরু করছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের তরুণ সদস্যরা বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও মহল্লায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যা, বিশেষ করে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করবেন। দীপকের দাবি, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই ভবিষ্যতের কর্মসূচির ভিত্তি করা হবে।
দেশজুড়ে ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচির ঘোষণা অভিজিতের (Abhijeet Dipke)
এই নতুন উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে শিক্ষা ব্যবস্থা। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, দেশে শিক্ষার ব্যয় এমনভাবে বেড়েছে যে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের বহু মানুষের কাছে ভালো শিক্ষা এখন প্রায় অধরাই হয়ে উঠছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে অনেক বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতেই বছরে এক থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভর্তি ফি, ডোনেশন এবং অন্যান্য খরচ। শুধু স্কুল নয়, কলেজ ও বিভিন্ন কোচিং প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান ফিও অভিভাবকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। তাঁর মতে, শিক্ষার এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় বহু পরিবারকে ঋণ নিতে বাধ্য করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: মায়ের গয়না বিক্রি করে পড়াশোনা! আজ মাইক্রোসফটে করছেন ১.৯ কোটির চাকরি, চমকে দেবে মনুর কাহিনি
দীপকে জানান, তাঁদের সংগঠন এই সমস্যাকে শুধু একটি শিক্ষাগত ইস্যু হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে দেখছে। তাঁর মতে, শিক্ষা এমন একটি ক্ষেত্র, যা প্রত্যেক নাগরিকের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। ড. বি. আর. আম্বেদকরের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। তাই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত সংগ্রহ করে শিক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত একটি সুসংহত রূপরেখা তৈরির পরিকল্পনা করছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের দাবি, মানুষের বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন ঘটিয়েই ভবিষ্যতের দাবি ও আন্দোলনের দিশা ঠিক করা হবে।
নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের সময় থেকেই অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সংগঠন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। সেই আন্দোলনের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, খুব দ্রুত ককরোচ জনতা পার্টি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে পরিণত হবে। তবে দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত তাঁদের সেই পরিকল্পনা নেই। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের আগে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও গভীর সংযোগ গড়ে তোলা এবং তাঁদের প্রকৃত সমস্যাগুলি বোঝাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেই লক্ষ্যেই সংগঠনের তরুণ সদস্যদের মাঠে নামিয়ে দেশজুড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। তাঁর মতে, মানুষের কণ্ঠস্বর না শুনে কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়।

অভিজিৎ দীপকের (Abhijeet Dipke) দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা শুধু কোনও একটি রাজ্য বা শহরের সমস্যা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। তাই নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের অভিজ্ঞতা একত্রিত করে একটি বাস্তবভিত্তিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মতামতও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা নিয়ে জনমত আরও সুসংগঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি আরও জোরালোভাবে সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।













