বায়ুসেনা থেকে অবসর নিলেন পাকিস্তানি এফ-১৬ ধ্বংস করা অভিনন্দন বর্তমান! শুরু করলেন নতুন ইনিংস

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০১৯ সালের সেই আকাশযুদ্ধের কথা মনে করলেই যে নামটি সবার আগে মনে আসে, তিনি উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান (Abhinandan Varthaman)। পাকিস্তানি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে তা গুলি করে নামানোর পর পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে বন্দি হয়েছিলেন তিনি। প্রায় তিন দিন প্রতিবেশী দেশের হেফাজতে থাকার পরও তাঁর দৃঢ়তা ও কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে দেশজুড়ে (India) তৈরি হয়েছিল গভীর শ্রদ্ধা। সেই অভিনন্দন বর্তমানই এবার ভারতীয় বায়ুসেনার চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, অবসরের পর আগস্ট মাসে তিনি গোয়ার স্থানীয় বিমানসংস্থা FLY91-এ পাইলট হিসেবে নতুন কর্মজীবন শুরু করেছেন। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানের ককপিট থেকে এবার যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে তাঁর নতুন অধ্যায় শুরু হল।

বায়ুসেনা থেকে অবসর নিলেন পাকিস্তানি এফ-১৬ ধ্বংস করা অভিনন্দন বর্তমান (Abhinandan Varthaman)!

অভিনন্দনের (Abhinandan Varthaman) জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই ঘটনা ঘটেছিল পুলওয়ামা হামলার পর। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে সিআরপিএফের কনভয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় জইশ-ই-মহম্মদ। ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৪০-এর বেশি জওয়ান। তার ঠিক ১২ দিন পর পাকিস্তানের বালাকোটে জইশের প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের আকাশসীমায় ঢুকে পালটা হামলার চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করতে আকাশে ওঠে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। সেই সংঘর্ষের মধ্যেই মিগ-২১ বাইসন নিয়ে পাকিস্তানি এফ-১৬-কে ধাওয়া করেন তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন।

আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকেই সীমান্তে কড়া নজর! ISRO উৎক্ষেপণ করছে EOS-05 স্যাটেলাইট

পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানটিকে ধাওয়া করতে গিয়ে অভিনন্দন পাকিস্তানের আকাশসীমার গভীরে চলে যান। ভারতীয় পক্ষের দাবি অনুযায়ী, তিনি একটি পাকিস্তানি এফ-১৬-কে গুলি করে নামাতে সক্ষম হন। কিন্তু সেই সংঘর্ষের সময় তাঁর নিজের মিগ-২১-ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের এলাকায় অবতরণ করতে বাধ্য হন। এরপরই তাঁকে পাকিস্তানি বাহিনী আটক করে। অভিনন্দনের বন্দি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে ভারতজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক চাপের মুখে পাকিস্তান অভিনন্দনকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর দেশে ফিরে আসেন তিনি। পরে তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে বীর চক্রে সম্মানিত করা হয় এবং বায়ুসেনায় পদোন্নতিও দেওয়া হয়।

অভিনন্দনের বন্দিদশার সময় তাঁর কয়েকটি আচরণ এবং বক্তব্যও দেশবাসীর মধ্যে গভীর ছাপ ফেলেছিল। শত্রুপক্ষের হাতে আটক হয়েও সামরিক দায়িত্ব ও দেশের প্রতি আনুগত্য থেকে তিনি সরে আসেননি। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর তিনি হয়ে ওঠেন ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও দৃঢ়তার অন্যতম প্রতীক। তবে সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাত বছর পর এবার অনেকটাই নীরবে সামরিক জীবন শেষ করলেন তিনি। সময়ের আগেই বায়ুসেনা থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর সামনে খুলে গেল সম্পূর্ণ অন্য ধরনের উড়ানের জগৎ। যুদ্ধবিমানের ঝুঁকিপূর্ণ মিশনের বদলে এবার সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে আকাশে উড়বেন তিনি।

Abhinandan Varthaman, who shot down a Pakistani F-16, retires from the IAF!

আরও পড়ুন: শত্রু ঘাঁটির ৮০ কিমি ভেতরে ঢুকে হামলার ক্ষমতা! হেলিকপ্টার থেকেই হবে লঞ্চ, নতুন ড্রোন খুঁজছে ভারত

গোয়ার বিমানসংস্থা FLY91-এ আগস্ট থেকেই পাইলট হিসেবে কাজ শুরু করেছেন অভিনন্দন (Abhinandan Varthaman) বলে জানা গিয়েছে। সংস্থাটি ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করে এবং বর্তমানে তাদের বিমানবহরে প্রায় ছয়টি ATR 72-600 রয়েছে। ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম আলোচিত যোদ্ধা পাইলটের কেরিয়ারে এবার শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। একসময় দেশের আকাশ রক্ষার জন্য যুদ্ধবিমানে চেপে শত্রুপক্ষের মোকাবিলা করেছিলেন যে পাইলট, এখন তিনিই বেসামরিক বিমান পরিষেবার অংশ হয়ে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন। যুদ্ধক্ষেত্রের সেই সাহসী অধ্যায় শেষ হলেও অভিনন্দনের উড়ান থামছে না—শুধু বদলে যাচ্ছে আকাশে তাঁর ভূমিকা।