বাংলা হান্ট ডেস্ক : শালবনির জমি সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Abhishek Banerjee PA)। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তির খোঁজে সম্প্রতি তাঁর কলকাতার বাসভবনে পৌঁছেছিল পুলিশ। এরপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সুমিত রায়কে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কী অভিযোগ সুমিত রায়ের (Abhishek Banerjee PA) বিরুদ্ধে?
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জমি দুর্নীতির মামলায় সুমিত রায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁকে খুঁজছে শালবনি থানার পুলিশ ও এসটিএফ। শুধু তাই নয়, বিধানসভা সংক্রান্ত একটি জালিয়াতি মামলাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর নকল করার অভিযোগেও তদন্তের আওতায় রয়েছেন তিনি।জমি জালিয়াতি মামলায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা আদালত।
অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ জমি বেআইনিভাবে হাতবদল ও দখলের ঘটনায় তিনি জড়িত। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি খাস জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে প্রায় ৩০০ একর জমি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভুয়ো কাগজপত্র ব্যবহার করে উদ্বাস্তু কলোনির জমি আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। গ্রেফতার এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন তদন্তের স্বার্থে সুমিত রায়ের খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছয় শালবনি থানার একটি দল। অন্যদিকে, হুগলির শ্রীরামপুর পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ লেনে রয়েছে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সুস্মিতা ঘোষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সুমিত।
সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সুমিত রায়ের খোঁজে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন তাঁর শাশুড়ি।
সোমবার ফের ওই বাড়িতে পৌঁছে দেখা যায়, ফটকে তালা ঝুলছে। বাড়ির ভেতর থেকেও কোনও সাড়া মেলেনি। ফলে তাঁর অবস্থান নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুন :কন্ডোম, ম্যাসাজ মেশিন, নগদ টাকা! তৃণমূল কাউন্সিলরের অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে মিলল কী কী?
প্রসঙ্গত, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও জেলার দলীয় সভাপতি সুজয় হাজরাকে ঘিরে জমি কেনাবেচার একটি মামলার সূত্র ধরেই সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে। একাধিক মামলায় নাম জড়িয়ে পড়ায় সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্তের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। জমি দুর্নীতি ও স্বাক্ষর জালিয়াতি দুই মামলাতেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।

















