বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমানে শেয়ার বাজারে পাওয়ার সেক্টর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ঠিক এই আবহেই আদানি গ্রুপের (Adani Group) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা আদানি পাওয়ার বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট আকৃষ্ট করেছে। সোমবার, BSE-তে কোম্পানিটির শেয়ার লাফিয়ে বৃদ্ধি পেয়ে এক সময়ে ২০৭.৪০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। এটি ছিল এই শেয়ারের ৫২-সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তর। তবে, শেয়ার বাজার বন্ধের সময়ে BSE-তে শেয়ারটি ১.২১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে ২০০.৮০ টাকায় বন্ধ হয়। এদিকে, এই শেয়ারের শক্তিশালী উত্থানের নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। কোম্পানিটি একদিকে যেমন নিউক্লিয়ার এনার্জি তথা পারমাণবিক শক্তি সেক্টরে তার প্রভাব বিস্তার করছে; অন্যদিকে, আগামী দিনগুলিতে প্রত্যাশিত তীব্র তাপপ্রবাহ এই কোম্পানির ব্যবসাকে ইতিবাচক গতি এনে দিচ্ছে।
নিউক্লিয়ার এনার্জিতে আদানি গ্রুপের (Adani Group) ‘মাস্টারস্ট্রোক’:
জানিয়ে রাখি যে, আদানি গ্রুপ এখন প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নিউক্লিয়ার এনার্জির দিকেও তাদের মনোযোগ প্রসারিত করছে। রবিবার স্টক এক্সচেঞ্জে দাখিল করা সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আদানি অ্যাটমিক এনার্জি (AAEL) কোস্টাল মহা অ্যাটমিক এনার্জি (CMAEL) নামে একটি সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা গঠন করেছে। এই নতুন কোম্পানিটি গত ১৩ এপ্রিল রেজিস্টার্ড হয় এবং ১৮ এপ্রিল এটির ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট মিলেছে।
এই সংস্থার প্রধান কাজ হল নিউক্লিয়ার এনার্জি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা এবং সেই বিদ্যুতের ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন করা ৫ লক্ষ টাকার প্রাথমিক অথোরাইজড ক্যাপিটাল নিয়ে গঠিত এই কোম্পানিটিকে ১০ টাকা মূল্যের ৫০,০০০ ইক্যুইটি শেয়ারে বিভক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে, কোম্পানিটি আদানি অ্যাটমিক এনার্জি গঠনের ঘোষণা করেছিল। এমতাবস্থায়, সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই এই খবর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়ে দেয় এবং শেয়ারগুলিতে জোরালো ক্রয় দেখা যায়।

তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সরাসরি সম্পর্ক: মূলত, শেয়ার বাজারে আদানি গ্রুপের শেয়ারের ক্রমাগত উত্থানের আরও একটি বড় কারণ হল আবহাওয়া। গর ১ সপ্তাহে এবং ১ মাসে এই শেয়ারটি যথাক্রমে ১৬.০৩ শতাংশ এবং ৩০.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই ব্রোকারেজ ফার্ম জেএম ফাইনান্সিয়ালের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে যে, গত মার্চের শুরুতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০ মার্চের দিকে একটি বিরল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আবহাওয়ায় পরিবর্তন নিয়ে আসে। আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান ও ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত মেঘ অসময়ের বৃষ্টি ও শীতলতা নিয়ে আসে। যেহেতু এই সিস্টেমটি এখন উত্তর ভারত থেকে সরে যাচ্ছে, এমতাবস্থায়, বিশেষজ্ঞরা আসন্ন তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিচ্ছেন। এই বর্ধিত তাপের ফলে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ খরচ সরাসরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যা আদানি পাওয়ারের মতো বড় কোম্পানিগুলির বিক্রি ও মুনাফায় সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: একের পর এক ছুটি! এপ্রিলে আর কবে কবে বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক? দুর্ভোগ এড়াতে জানুন তালিকা
কার কার হবে লাভ: জেএম ফাইনান্সিয়ালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এল নিনোর বছরগুলিতে বিদ্যুতের চাহিদায় বরাবরই একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০১৫ সালে, এল নিনো অক্টোবর পর্যন্ত তাপ ও আর্দ্রতা নিয়ে এসেছিল। যার ফলে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ৪-৫ শতাংশ বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ২০১৯ সালের এপ্রিল-জুন মাসে, যখন গড় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বেশি ছিল, তখন বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদায় ৭-৯ শতাংশের এক ঐতিহাসিক বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়। ২০২৩ সালেও কম বৃষ্টিপাত ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।
আরও পড়ুন: ‘যতক্ষণ আমি ক্রিজে আছি…’, রাখঢাক না রেখেই নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে কী জানালেন বৈভব সূর্যবংশী?
ব্রোকারেজ ফার্মটি স্পষ্টভাবে মনে করে যে, খরা পরিস্থিতির কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে NHPC এবং SJVN-এর মতো সংস্থাগুলি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। যা সরাসরি NTPC এবং আদানি পাওয়ারকে লাভবান করবে। বাজারে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক মূল্যও বেশি থাকবে। যার ফলে আদানি গ্রিন ও আদানি পাওয়ারের মুনাফার হার ব্যাপক হারে বাড়তে বাধ্য।
সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।












