ডিজিটাল দুনিয়ায় ‘রাজ’ করবেন আদানি! ডেটা সেন্টারের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি

Published on:

Published on:

Adani Group prepares to raise billions of dollars for data centers

বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রচলিত জ্বালানি ব্যবসার পাশাপাশি এবার ডিজিটাল পরিকাঠামোর দুনিয়াতেও নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইছে আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) এবং ক্লাউড পরিষেবার চাহিদা যত বাড়ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ডেটা সেন্টার ব্যবসা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বড়সড় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে গৌতম আদানির (Gautam Adani) সংস্থা। সেই লক্ষ্যেই ডেটা সেন্টার ব্যবসার জন্য প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিদেশি ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অর্থ অফশোর ঋণের মাধ্যমে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও ঋণের পরিমাণ, সুদের হার এবং অন্যান্য শর্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এই উদ্যোগ থেকে স্পষ্ট, আগামী দিনে ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোর বাজারে বড় অংশীদার হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে আদানি গোষ্ঠী।

ডেটা সেন্টারের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের প্রস্তুতি আদানি গ্রুপের (Adani Group)

এই অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) যৌথ উদ্যোগের সংস্থা আদানি কননেক্স প্রাইভেট লিমিটেড। আন্তর্জাতিক ডেটা সেন্টার অপারেটর এজকননেক্সের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সংস্থা তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত ঋণের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে সংস্থাটি। সম্ভাব্য ঋণদাতাদের তালিকায় রয়েছে ডিবিএস গ্রুপ হোল্ডিংস, ফার্স্ট আবু ধাবি ব্যাঙ্ক বা এফএবি এবং জাপানের মিতসুবিশি ইউএফজে ফিনান্সিয়াল গ্রুপ (এমইউএফজি)। এ ছাড়াও ন্যাটিক্সিস, আইএনজি ব্যাঙ্ক এবং সোসিয়েতে জেনারেলের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঋণের মেয়াদ পাঁচ থেকে সাত বছর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সুদের হার-সহ চূড়ান্ত আর্থিক শর্ত নিয়ে এখনও দর কষাকষি চলছে। কয়েকটি ব্যাঙ্ক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চায়নি। অন্যদিকে আদানি গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: হতে পারে পরমাণু হামলা? আগেভাগেই দেশবাসীকে সতর্ক করল ইরান, জারি অ্যাডভাইজারি ভিডিও

ডেটা সেন্টার ব্যবসায় আদানি গোষ্ঠীর এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা। সংস্থার লক্ষ্য, ২০৩৫ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টার-সহ বিভিন্ন ডিজিটাল পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রচলিত ব্যবসার বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর উপস্থিতি অনেকটাই বাড়বে। তবে এই বাজারে প্রতিযোগিতা যে সহজ হবে না, তা স্পষ্ট। কারণ, একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল পরিষেবার পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল অর্থ ঢালার পরিকল্পনা করছে মুকেশ আম্বানির রিলায়্যান্স গোষ্ঠীও। আগামী সাত বছরে এআই-সম্পর্কিত পরিকাঠামো তৈরিতে ১১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রিলায়্যান্স। ফলে দেশের দুই বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে ডেটা সেন্টার ও প্রযুক্তি পরিকাঠামোর বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আসলে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের প্রয়োজন হচ্ছে। সেই কাজের জন্য অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দেশে দ্রুত ডেটা সেন্টারের পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগস্টে ভারতে ডেটা সেন্টারের মোট ক্ষমতা ছিল প্রায় ১.৫৭ গিগাওয়াট। ২০৩০ সালের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় ৮ গিগাওয়াটে পৌঁছতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সম্প্রসারণের ফলে আগামী সাত থেকে আট বছরে ভারতের ডেটা সেন্টার শিল্প প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও এই ক্ষেত্র ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

Adani Group prepares to raise billions of dollars for data centers

আরও পড়ুন: একাধিক স্ত্রী থাকলে আর থাকবে না চাকরি! সরকারি কর্মীদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রস্তাবিত ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ আদানি (Adani Group) কননেক্সের প্রথম বড় অর্থসংগ্রহের উদ্যোগ নয়। এর কয়েক মাস আগেই সংস্থাটি ডেটা সেন্টার ব্যবসার জন্য ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সংগ্রহ করেছিল। তবে সেই ঋণের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। এবার পাঁচ থেকে সাত বছরের সম্ভাব্য মেয়াদে নতুন অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা সংস্থার সম্প্রসারণকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ভিত্তি দিতে পারে। ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, ততই ডেটা সেন্টারকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আদানি ও রিলায়েন্সের মতো বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগের পরিকল্পনা দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ দিশা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ঋণ এখনও আলোচনার পর্যায়ে থাকায় চূড়ান্ত চুক্তি ও বিনিয়োগের বাস্তব অগ্রগতির দিকেই এখন নজর থাকবে।