বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলেও এখনও পুরো ভোটার তালিকা তৈরি না হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ ঘিরে এবার মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দু’দিকেই একসঙ্গে আক্রমণ শানালেন তিনি।
কী বলেছিলেন মমতা?
৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে মাত্র ২৯ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই নিয়ে নিজের খোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব রাজনৈতিক দলকে একজোট হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত।
কী বললেন অধীর (Adhir Chowdhury)?
মমতার এই মন্তব্যের জবাবে অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই সন্দেহ থাকে, তাহলে সরাসরি ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে না কেন? তাঁর মতে, শুধুমাত্র আহ্বান নয়, সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন অধীর। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শাসকদলের কর্মীরা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে এবং মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। মুর্শিদাবাদেও অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি অধীর (Adhir Chowdhury)। ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, বিচারপতিরা ভোটার তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন—এমন ঘটনা আগে শোনা যায়নি। এই বিষয়টি স্বাভাবিক নয় বলেই ইঙ্গিত দেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের ভূমিকা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এতে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই’, ভোটের মুখে ভোটার তালিকা বিভ্রাটে বিস্ফোরক মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
সবশেষে তিনি (Adhir Chowdhury) স্পষ্ট করে বলেন, পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে কোনওভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত নয়। প্রত্যেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ভোট প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিও জানান তিনি।












