বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ভোটার তালিকা। আর সেই তালিকাই যদি নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি, তাহলে নির্বাচন ঘিরে অস্বস্তি বাড়তেই পারে। পশ্চিমবঙ্গে ঠিক সেই ছবিটাই সামনে এসেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে গিয়েও স্পষ্ট নয় কার নাম রয়েছে, কার বাদ পড়েছে। এমন অবস্থায় ভোটাধিকার নিয়ে বিষয়টি পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court), আর সেখানেই উঠে আসে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ভোটাধিকার নিয়ে আদালতে (Supreme Court) আর্জি
SIR প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। মূল দাবি, যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁদের আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ, প্রথম দফার ভোটের আগে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
মঙ্গলবার শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী আগের নির্দেশের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন এবং ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন শেষ হলেই ভোটার তালিকা স্থির হয়ে যাবে। ফলে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়ছেন।
১৪ প্রার্থীর নাম ঝুলে
শুনানিতে উঠে আসে, অন্তত ১৪ জন প্রার্থী এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি মূলত প্রশাসনিক এবং তা কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও সাধারণ মানুষ তা দেখতে পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলগুলিকে অন্তত সফট কপি দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এর জবাবে আদালত (Supreme Court) পরামর্শ দেয়, যাঁদের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন।
এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজন হলে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয়।শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এই ধরনের সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই দেখা গিয়েছে, অন্য রাজ্যগুলিতে SIR প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে মসৃণ ছিল। পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গেই বিভিন্ন অসঙ্গতি বেশি সামনে এসেছে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ওঠে। সেটা হল ভোটার তালিকা স্থির করার সময়সীমা বাড়ানো হোক। যদিও এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি আদালত কমিশনকে নির্দেশ দেয়, যেসব কেন্দ্রে আগে ভোট, সেগুলির সমস্যা আগে মেটানোর চেষ্টা করতে।

আরও পড়ুনঃ ‘বাম-ডান ভুলে একজোট হোন!’ কমিশনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিস্ফোরক ডাক মমতার
আদালত (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে হবে। কমিশন ও বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়। আগামী ১ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।












