বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মহিলাদের আর্থিক সহায়তার অন্নপূর্ণা যোজনায় ১২ পাতার দীর্ঘ আবেদনপত্র নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নামে সাধারণ মানুষকে অকারণ প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে অভিযোগ অধীরে (Adhir Ranjan Chowdhury)
অন্নপূর্ণা যোজনার ইস্যুতে সরাসরি শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে যেভাবে সহজ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ আবেদনপত্র এবং নানা শর্ত সাধারণ উপভোক্তাদের জন্য নতুন বাধা তৈরি করছে বলে তাঁর দাবি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”ভোটের আগে এক কথা আর ভোটের পরে অন্য কথা কেন? ভোটের আগে তো কেউ এই ১২ পাতার দরখাস্তের পাহাড়ের কথা বলেনি!”
রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়ে প্রকল্পের সুফল থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে কেন্দ্র করে এই বাংলায় রাজনীতি হয়েছে, এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু কংগ্রেস শাসিত প্রতিটি রাজ্যে এই ধরণের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সফলভাবে চলছে। বাংলায় বলা হতো ভোট না দিলে সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু কংগ্রেসের রাজ্যে এমন কথা কখনও বলা হয়নি।”
অধীর চৌধুরীর দাবি, নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল বিদ্যমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩ হাজার টাকা পাবেন এবং নতুনরাও যুক্ত হবেন। কিন্তু ১২ পাতার আবেদনপত্র সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই নিয়েই তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যদি ১২ পাতার ফর্ম ফিলাপ করতে হয়, তবে তো মনে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে CBSE বা NEET পরীক্ষা দিতে হচ্ছে! গ্রামের বা সাধারণ অভাবী মানুষ কীভাবে এই জটিল ফর্ম পূরণ করবেন?”

আরও পড়ুন : ২২ দিন পর বড় সিদ্ধান্ত, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কারা হচ্ছেন মন্ত্রী? সামনে এল সম্ভাব্য তালিকা
সরকারকে ইঙ্গিত করে অধীর রঞ্জন বলেন, “আসলে সরকারের আসল মতলব হলো, কোনোভাবে সাধারণ মানুষকে জটিলতায় ফেলে ওই ৩ হাজার টাকাটা যেন দিতে না হয়।” সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার বক্তব্য, এত জটিল নিয়ম তৈরি করে আদৌ প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।













