বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) দোরগোড়ায়। নির্বাচনের নিরাপত্তা এটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এবার প্রযুক্তির উপর ভরসা করে বুথের ভেতর ও বাইরে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপ ভোটে অনিয়ম রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনে (Assembly Election) নিরাপত্তার ভার এআইয়ের
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুথের ভিতরে নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির উপস্থিতিই অনুমোদিত থাকবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের ভিতর থাকবেন এক জন প্রিসাইডিং অফিসার, তিন জন পোলিং অফিসার এবং প্রার্থীপিছু এক জন পোলিং এজেন্ট। এর বাইরে কেউ প্রবেশ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করবে এআই প্রযুক্তি এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের সতর্ক করবে।
প্রতিটি বুথের ভেতরে ও বাইরে বসানো হবে ওয়েবক্যামের ব্যবস্থা। কোথাও যদি একটি ক্যামেরা যথেষ্ট না হয়, সেখানে একাধিক ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এই ক্যামেরাগুলির মাধ্যমে লাইভ ফুটেজ সরাসরি পৌঁছে যাবে কন্ট্রোল রুমে। সেখানে বসে নজরদারি চালাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।
এআই কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়েও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। এআই মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে চিহ্নিত করতে পারবে। অর্থাৎ মানুষের অস্তিত্ব টের পেয়ে তাঁকে কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র দিয়ে ঘিরে পর্দায় জানান দেবে। ফলে খুব সহজেই বোঝা যাবে বুথে কতজন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, একটি বুথে ১০ জন থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ জন উপস্থিত। এই পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠাবে এআই। সংশ্লিষ্ট বুথের ছবি যে স্ক্রিনে দেখা যাবে, তা লাল রঙে চিহ্নিত হয়ে উঠবে। এরপর সেই স্ক্রিনে ক্লিক করলেই প্রিসাইডিং অফিসারের ফোন নম্বর ভেসে উঠবে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। অতিরিক্ত ব্যক্তির উপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হবে।
আবার, কেউ যদি ইভিএমের সামনে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন-তাহলেও তা নজরে আনবে এআই।

আরও পড়ুন : আগে থেকেই ছিলেন কোটিপতি, সম্পত্তি বাড়িয়ে কত টাকার মালিক ফিরহাদ হাকিম ?
বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত মঙ্গলবার জানান, “সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে বসে একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি দেখতে পারবেন মাইক্রো অবজার্ভারেরা। সেখানে ১০টি টেলিফোন লাইন থাকবে। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রায় ২০০ জনের মতো মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে।” প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। এআই-এর সক্রিয় ব্যবহারে অনিয়ম রোধ করা যেমন সহজ হবে।












