মাত্র ৩৮ বছরেই প্রাণ হারালেন অখিলেশ যাদবের ভাই প্রতীক! কীভাবে মৃত্যু? সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা  মুলায়ম সিং  যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র  প্রতীক যাদবের (Prateek Yadav) অকালমৃত্যু ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু নিয়ে একাধিক জল্পনা শুরু হয়। যেহেতু প্রতীক একটি জিম পরিচালনা করতেন, তাই অতিরিক্ত স্টেরয়েড ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি স্ত্রী অপর্ণার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। তবে চিকিৎসকদের বক্তব্যে ধীরে ধীরে সেই সমস্ত জল্পনায় ইতি পড়েছে।

মাত্র ৩৮ বছরেই প্রাণ হারালেন অখিলেশ যাদবের ভাই প্রতীক (Prateek Yadav)!

চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছর ধরে ডিপ ভেইন থ্রম্বসিস বা ডিভিটি রোগে ভুগছিলেন প্রতীক। এই রোগে শরীরের শিরার মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। সাধারণত পায়ের শিরায় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও, জমাট বাঁধা রক্ত যদি ভেঙে ফুসফুসে পৌঁছে যায়, তাহলে তা পালমোনারি এম্বলিজমের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই এই রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:যুদ্ধের উত্তেজনার আবহেই দিল্লিতে উপস্থিত রাশিয়া ও ইরানের বিদেশমন্ত্রী! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

জানা গিয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল আচমকাই বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং ঝিমুনির উপসর্গ দেখা দেয় প্রতীকের শরীরে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং আইসিইউয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসকদের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হচ্ছিল। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। কারণ ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি থেকেই গিয়েছিল। তাই তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু চিকিৎসকের কথায়, গত ১ মে প্রতীক হাসপাতালে না থেকে বাড়ি ফিরতে চান। পরিবারের কাছে এবং সন্তানের কাছে থাকার ইচ্ছা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁকে স্পষ্ট ভাবে সতর্ক করেছিলেন যে, এই পরিস্থিতিতে আইসিইউ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবুও তিনি সেই পরামর্শ মানেননি। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি চিকিৎসকদের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও অসুস্থতার জটিলতাকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Akhilesh Yadav's brother, Prateek Yadav, loses his life at just 38!

আরও পড়ুন: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, শিয়ালদহ শাখায় বড় আপগ্রেড, যাত্রীদের মুখে স্বস্তির হাসি

ফলে স্টেরয়েড বা অন্য কোনও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, বরং গুরুতর অসুস্থতার মাঝেও দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়ার প্রবল মানসিক তাগিদই প্রতীকের মৃত্যুর নেপথ্যে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, প্রতীক (Prateek Yadav) ভেবেছিলেন সময় এখনও হাতে রয়েছে এবং সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়াল। প্রতীক যাদবের অকালপ্রয়াণ তাই শুধুই এক রাজনৈতিক পরিবারের ব্যক্তিগত শোক নয়, বরং চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করার ভয়াবহ পরিণতির এক মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবেও উঠে এল।