বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার আবহেও রফতানিতে নতুন নজির গড়ল ভারত (India)। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে একাধিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খেলেও, সি-ফুড রফতানিতে এ বছর সর্বকালের সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে দেশ। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের মতে, বিশেষ করে চিংড়ি মাছের বিপুল চাহিদাই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
সি-ফুড রফতানিতে রেকর্ড গড়ল ভারত (India)
যদিও পরিস্থিতি আরও অনুকূল থাকলে এই সেক্টরটি আরও বড় সাফল্য পেতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সি-ফুডের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা ও আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বাজারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করেছে চিন, যেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রফতানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতায় আসার একমাসেই বিক্ষোভের ঝড়! ছাত্র আন্দোলন ও শুল্ক সিদ্ধান্তে উত্তাল নেপাল, চাপে বলেন্দ্র শাহ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের সি-ফুড রফতানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭২,৩২৫ কোটি টাকা। একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৯.৩২ লক্ষ মেট্রিক টন। যদিও আমেরিকায় রফতানি কমেছে, তবুও এই বাজার এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে রয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বাজারে চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশলই এই সাফল্যের অন্যতম কারণ।
পণ্যের দিক থেকে দেখলে, ফ্রোজেন চিংড়িই সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে। মোট রফতানি আয়ের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৪৭,৯৭৩.১৩ কোটি টাকা এসেছে শুধুমাত্র এই একটি পণ্য থেকেই। এছাড়াও অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যের চাহিদাও বিভিন্ন দেশে ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা সামগ্রিক রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকায় রফতানি মূল্য ১৪.৫ শতাংশ কমলেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ৩৭.৯ শতাংশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৩৬.১ শতাংশ এবং জাপানে ৬.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চিনে ২২.৭ শতাংশ বৃদ্ধিই বড় ভূমিকা নিয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতের (India) বিকল্প বাজার খোঁজার ‘প্ল্যান বি’ কার্যকর হয়েছে এবং সি-ফুড রফতানির এই সাফল্য সেই কৌশলেরই প্রমাণ।












