ক্ষমতায় আসার একমাসেই বিক্ষোভের ঝড়! ছাত্র আন্দোলন ও শুল্ক সিদ্ধান্তে উত্তাল নেপাল, চাপে বলেন্দ্র শাহ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত মাসের শেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছিল নেপাল। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন জেন জি-র ‘পোস্টার বয়’ এবং প্রাক্তন র‍্যাপার বলেন্দ্র শাহ (Balen Shah)। কিন্তু ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তিনি। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কেন্দ্র সিংহ দরবার, সর্বত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়ারা।

নেপালে বিক্ষোভের মুখে বলেন্দ্র শাহ (Balen Shah)

এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সরকারের সাম্প্রতিক দুটি সিদ্ধান্ত। প্রথমত, নতুন প্রশাসন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যুক্ত ছাত্র ইউনিয়নগুলিকে বন্ধ করতে চাইছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই ‘দমনমূলক’ বলে অভিযোগ তুলেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতিতে ‘এক্সটেনশন’, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ইরান সংঘাতে নয়া মোড়, শান্তি আলোচনায় সময় দিতে সাময়িক বিরতি বাড়াল আমেরিকা

দ্বিতীয়ত, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর নতুন শুল্কনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ১০০ টাকার বেশি মূল্যের ভারতীয় পণ্যে বাধ্যতামূলক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ভারতের উপর নির্ভরতা থাকায় এই সিদ্ধান্ত সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। ফলে অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনরোষও।

এরই মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে মন্ত্রিসভায় টানাপোড়েনের কারণে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং তাঁর সম্পত্তি সংক্রান্ত হলফনামা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি, শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষামন্ত্রী দীপককুমার শাহকেও সম্প্রতি পদ থেকে সরানো হয়েছে। ফলে সরকারের ভিত যে এখনও স্থিতিশীল হয়নি, তা স্পষ্ট।

PM Balen Shah Faces Protests in Nepal

আরও পড়ুন:‘নাম ধরে..’, ৫০০ গ্রেপ্তার নিয়ে প্রথম বিবৃতিতেই কড়া সুর, ময়দানে তৃণমূল নেতা রাজীব কুমার

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন জি আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি। চলতি বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৬৫টি দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ১৬৫টি আসনে। সেই নির্বাচনে বলেন্দ্র শাহের (Balen Shah) নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির উত্থান ছিল অপ্রত্যাশিত। তবে ক্ষমতায় আসার পর এত দ্রুত এই ধরনের জনবিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে, তা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।