বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের (India-Iran)। দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিল ইরান। শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাত্তালি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদভাবে চলাচলের বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তাঁর কথায়, “ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। তাই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাই রয়েছে।”
জ্বালানি সংকটের মাঝেই ভারত-ইরান (India-Iran) নতুন সমীকরণ!
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরানের তরফে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে এই প্রণালী দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার তেল রফতানি আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে। যদিও বিশেষ ছাড় দিয়ে চিন ও রাশিয়াকে আগেই এই পথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু এতদিন ভারত সেই সুবিধা পায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তা এবং দেশে গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল।
আরও পড়ুন:IPL থেকে ছিটকে গেলেন হর্ষিত রানা! PSL থেকে নাম প্রত্যাহার করে KKR-এ যুক্ত হলেন নতুন পেসার
এই আবহে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানান, ভারতকে হরমুজে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তিনি আরও বলেন, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ইঙ্গিত ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ফোনে কথা বলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক স্তরে ব্যাকচ্যানেল আলোচনাও চলছিল, যার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে বড় আয়োজন, ১ লক্ষ কর্মীর জন্য স্পেশাল খাবার! কী কী থাকছে আজকের মেনুতে? জানুন
যুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তবে ভারত মহাসাগরে ভারতীয় জলসীমার কাছাকাছি একটি ইরানি রণতরীতে মার্কিন হামলার পর ভারত মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে একটি থাই পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার পরই দিল্লি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করে। এখন যদি ভারতীয় জাহাজ চলাচলের অনুমতি কার্যকর হয়, তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।













