বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ইরানকে (Iran) ঘিরে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে আমেরিকার (America) সম্ভাব্য সামরিক হামলার জল্পনা চলমান। এই পরিস্থিতিতে তেহরান নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনে সমর্থন খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা ইরানের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ইরানের বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় ভারতের মোদী সরকারকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি, যা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
যুদ্ধের আবহে ভারতকে ধন্যবাদ জানাল ইরান (Iran):
এই প্রস্তাবটি ইরানে চলমান বিক্ষোভ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ উত্থাপন করে, যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি ছিল। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলির উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ২৫টি দেশ, তবে ভারত, চিন ও পাকিস্তানসহ ১৬টি দেশ এর বিপক্ষে ভোট দেয়। ভারতের এই ‘না’ ভোট ইরানের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তেহরানের বক্তব্য হল এই প্রস্তাব মানবাধিকার রক্ষার আড়ালে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি হাতিয়ার ছিল। রাষ্ট্রদূত ফাতালি জোর দিয়ে বলেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ন্যায্য ও স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার জন্য ইরান ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ।
আরও পড়ুন:বিনিয়োগ করেছিলেন খোদ রতন টাটা! সামাজিক ট্যাবু ভেঙে যা করে দেখালেন রিচা, জানলে অবাক হবেন
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ইরানে মূল্যবৃদ্ধি, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক নাগরিক বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলন দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভ-সম্পর্কিত ঘটনায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর প্রমাণ মিলেছে। ইরানি কর্মকর্তারা পাঁচ হাজারেরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন, যার মধ্যে শত শত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন।
এই অস্থির পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও বর্তমানে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত এবং পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের দিকে বড় সামরিক বাহিনী পাঠানোর দাবি করেছেন। তবে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসায় আমেরিকার কণ্ঠস্বর আপাতত কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নদীপাড়ে ‘খড়ি’র টোপ দিয়ে নাবালিকার ওপর পাশবিক নির্যাতন ‘দাদুর’! উত্তপ্ত কোচবিহার
সামগ্রিকভাবে, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আশঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে মত দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই সংকটময় মুহূর্তে ভারতের মতো একটি বৃহৎ ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সমর্থন ইরানের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। ভারতের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক কূটনীতিতে তার স্বাধীন নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পশ্চিম এশিয়ার জটিল রাজনীতিতে দেশটির ভূমিকাকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।












