বিনিয়োগ করেছিলেন খোদ রতন টাটা! সামাজিক ট্যাবু ভেঙে যা করে দেখালেন রিচা, জানলে অবাক হবেন

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিনিয়োগ করেছিলেন খোদ রতন টাটা! রিচা করের সাফল্যের কাহিনি সাহস, দূরদর্শিতা এবং অদম্য অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সামাজিক লজ্জা ও পারিবারিক আপত্তিকে অতিক্রম করে তিনি গড়ে তুলেছেন ভারতের বৃহত্তম অনলাইন অন্তর্বাস ব্র্যান্ড জিভামে, যা আজ অনেকের কাছেই পরিচিত “দেশি ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট” নামে। বর্তমানে রিলায়েন্স রিটেইলের অধীনে জিভামের সাফল্য রিচা করের সেই অগ্রণী মানসিকতারই প্রমাণ, যা শুরু থেকেই সমাজের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।

রিচা করের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

১৯৮০ সালের ১৭ জুলাই ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে জন্ম রিচা করের। এক ঐতিহ্যবাহী মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া রিচার বাবা টাটা স্টিলে কর্মরত ছিলেন এবং মা ছিলেন গৃহবধূ। পড়াশোনায় বরাবরই মনোযোগী রিচা ২০০৭ সালে মুম্বইয়ের এসভিকেএম-এর নরসী মঞ্জি ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। এরপর স্পেন্সার্স এবং এসএপি রিটেইল কনসালটেন্সির মতো সংস্থায় কাজ করে তিনি কর্পোরেট জগতের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর উদ্যোক্তা যাত্রার ভিত মজবুত করে।

আরও পড়ুন: স্বামীকে গুলি করেছিল শ্যালক, তাও অচল স্বামীর থেকে ভরণপোষণ চাইল স্ত্রী, নজরবিহীন রায় দিল হাই কোর্ট

এসএপি-তে কাজ করার সময় রিচা ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের অনলাইন ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেন। তখনই তাঁর চোখে পড়ে ভারতীয় মহিলাদের অন্তর্বাস কেনাকাটার জটিলতা—লজ্জা, অস্বস্তি এবং সীমিত পছন্দ। এই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় জিভামের ধারণা, এমন একটি ব্র্যান্ড যা নারীদের জন্য অন্তর্বাস কেনাকাটাকে স্বাভাবিক, ব্যক্তিগত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। তবে এই ভাবনা পরিবারে প্রথমে সমর্থন পায়নি। বাবা ছিলেন সন্দিহান, আর মা প্রকাশ্যেই আপত্তি জানান। তবুও রিচার একাগ্রতা ধীরে ধীরে মায়ের মন জয় করে এবং তিনিই পরে সঞ্চয় ও আত্মীয়দের বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে পাশে দাঁড়ান।

বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে জিভামে। “রেডিয়েন্ট মি” অর্থবোধক এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল নারীদের আত্মবিশ্বাস জাগানোর দর্শন। শুরুতে অফিস ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে ব্যবসার স্বীকৃতি পাওয়া পর্যন্ত নানা বাধার মুখে পড়তে হয় রিচাকে। তবে ইন্দোরের এক গ্রাহকের বড় অনলাইন অর্ডার তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর ২০১২ সালে ৩ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৫ সালে ৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসে। রতন টাটার বিনিয়োগ জিভামের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও দৃঢ় করে।

Richa Kar's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: ‘এই সরকার ক্ষমতাচ্যুত..,’ DA মামলার রায়দান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকায় ক্ষোভ উগরে দিলেন মলয়বাবু

২০২০ সালের মধ্যে জিভামের মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বা ১,৬৭০ কোটি টাকা। একই বছর রিলায়েন্স রিটেইল সংস্থাটি অধিগ্রহণ করলেও রিচা কর নিজের ইক্যুইটি ধরে রাখেন এবং পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত থাকেন। আনুমানিক ৭৪৯ কোটি টাকার সম্পদের অধিকারী রিচা করের এই যাত্রা কেবল এক সফল ব্যবসায়ীর গল্প নয়, বরং সমাজের গোঁড়ামি ভেঙে নতুন পথ তৈরি করার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।