বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে মোদী (Narendra Modi) সরকার। এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে অংশ নেন প্রায় সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা, যদিও ভোটমুখী কয়েকটি রাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন না। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে মোদীর (Narendra Modi) কড়া বার্তা
সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে একযোগে কাজ করার বার্তা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, নাগরিকদের স্বার্থরক্ষা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কোনওভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারি বা কালোবাজারি না করতে পারে, সে বিষয়ে রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রামনবমীতে অযোধ্যায় ভক্তির জোয়ার, সূর্য তিলকে উজ্জ্বল রামলালার কপাল
এছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে সারের পর্যাপ্ত মজুত ও সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের জেরে সামুদ্রিক বাণিজ্যে ইতিমধ্যেই চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণে উপকূলীয় এবং সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে পণ্য পরিবহণ ও বাণিজ্য কার্যক্রম নির্বিঘ্ন থাকে। একইসঙ্গে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ, তেল-গ্যাসের সরবরাহ বা মজুত নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানির উপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীরাও এই সিদ্ধান্তগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকের শেষে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই সংকটের সময়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে। তাঁদের মতে, দেশে বর্তমানে পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝেও কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তাই উঠে এসেছে এই বৈঠক থেকে।












