প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানির দামে নজর, শুল্ক কমানোর পরই ঘোষণা কেন্দ্রের, কতটা লাভবান হবে সাধারণ মানুষ?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ সঙ্কটের মাঝেই জ্বালানির (Fuel Price) দাম নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতি ১৫ দিন অন্তর পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম পর্যালোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি লিটার পেট্রল এবং ডিজ়েলে ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পেট্রলের উপর শুল্ক ১৩ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায়, আর ডিজ়েলের ক্ষেত্রে তা শূন্যে নেমে এসেছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই ছাড় কতদিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে আবার শুল্ক বাড়তে পারে কি না।

জ্বালানির দাম (Fuel Price) পরিবর্তনের পরই বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

যদিও শুল্ক কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব খুব একটা পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ পেট্রল ও ডিজ়েলের উপর অন্তঃশুল্ক ছাড়াও একাধিক সেস ও অতিরিক্ত কর বহাল রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রলে মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ১১.৯ টাকা, যার মধ্যে প্রাথমিক শুল্ক, বিশেষ অতিরিক্ত শুল্ক, কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস এবং সড়ক ও পরিকাঠামো সেস অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ডিজ়েলের ক্ষেত্রে মোট শুল্ক কমে হয়েছে ৭.৮ টাকা।

আরও পড়ুন: ১ কেজিমাটনে সঠিক মশলার অনুপাত জানেন? পেঁয়াজ-রসুন-আদার পারফেক্ট পরিমাপ জেনে নিন

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস-এর চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রল, ডিজ়েল এবং বিমান জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, ডিজ়েল ও এটিএফ রফতানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত শুল্ক ও সেস (Cess) আরোপ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে প্রতি ১৫ দিন অন্তর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনও এই পরিস্থিতির পিছনে বড় কারণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর হামলা চালায় ইজরায়েল ও আমেরিকা, যার জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশ্বের মোট তেল ও এলপিজি আমদানি-রফতানির প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এই পথ দিয়েই হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশে।

Govt took a big step immediately following the change in Fuel Price.

আরও পড়ুন: রামনবমীতে অযোধ্যায় ভক্তির জোয়ার, সূর্য তিলকে উজ্জ্বল রামলালার কপাল

ভারত তার জ্বালানির (Fuel Price) বড় অংশই আমদানি করে, যার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এই পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলির ক্ষতি কিছুটা লাঘব করতেই সরকার শুল্ক কমানোর পথে হাঁটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও এর ফলে সরকারের রাজস্বে চাপ পড়বে, তবুও বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।