বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলার জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ননসেন ওরফে শমীক অধিকারীকে গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২২ বছরের এক তরুণীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মারধর ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বেহালা থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya), যিনি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন।
কী অভিযোগ শমীকের বিরুদ্ধে?
বৃহস্পতিবার বেহালা থানায় শমীক অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ২২ বছরের এক তরুণী। অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ শমীককে গ্রেপ্তার করে। বেহালা থানার কেস নম্বর ৩৩/২৬ অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭(২), ১১৫(২), ৭, ৪ এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী তরুণীর দাবি শমীক তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে আটকে রেখেছিলেন। শুধু মানসিক চাপই নয়, তাঁকে মারধর করা হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শমীক অধিকারীর বিপুল অনুরাগী মহলেও শুরু হয় জোর চর্চা।
কী বললেন আমিত মালব্য (Amit Malviya)?
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র আকার নিয়েছে। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য (Amit Malviya) নিজের এক্স (X) হ্যান্ডলে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে অমিত মালব্য লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ আজ এক স্বৈরাচারী শাসনে পরিণত হয়েছে। এখানে গঠনমূলক সমালোচনার জবাব দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা, সাজানো এফআইআর এবং পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তাঁদের টার্গেট করা হচ্ছে, ভয় দেখানো হচ্ছে এবং চরিত্রহনন করা হচ্ছে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর ঘটনারও উল্লেখ করেন। অমিত মালব্য (Amit Malviya) দাবি করেন, “প্রথমে সায়ককে নিশানা বানানো হয়েছিল। পুরো তৃণমূল ইকোসিস্টেম তাঁর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাঁকে বিদ্বেষী তকমা দেওয়া হয়, জনসমক্ষে অপমান করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়। আজও সেই মামলা প্রত্যাহার হয়নি, বরং ভিন্নমতকে চুপ করানোর অস্ত্র হিসেবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।” অমিত মালব্য আরও অভিযোগ করে বলেন, যদি উল্টো ঘটনা ঘটত অর্থাৎ কোনো মুসলিম ক্রেতাকে হিন্দু ওয়েটার শুকরের মাংস পরিবেশন করতেন তবে রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। এই দ্বিমুখী নীতি তৃণমূলের ভণ্ডামিকে স্পষ্ট করে দেয় বলে তাঁর দাবি।
শমীক অধিকারীর গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তিনি আরও লেখেন, “এবার নিশানায় ননসেন। যিনি তাঁর ভিডিওতে বাংলার নারীদের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হয়েছিলেন, হঠাৎ করেই তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলা বন্ধুকে হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই তথাকথিত ঘটনা কবে ঘটেছে কেউ জানে না। ভিকটিম কেন আগে মুখ খোলেননি তাও স্পষ্ট নয়। তবুও আচমকা অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত শুরুর আগেই তৃণমূল নেতারা চরিত্রহনন শুরু করে দিয়েছেন।” অমিত মালব্যের মতে, এটি আসলে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কৌশল। মালব্য অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করছে, সমালোচকদের ভয় দেখাচ্ছে, পুলিশকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে,
এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করছে।

আরও পড়ুনঃ ৭৭ থেকে ১৭৭! বিধানসভা ভোটে বিজেপির মহাজয়ের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর
শেষে অমিত মালব্য (Amit Malviya) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের হাতে যারা নির্যাতিত, বিজেপি তাঁদের পাশে দাঁড়াবে। আমরা বাংলার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করব, ক্ষমতার অপব্যবহার ফাঁস করব এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। এটি বিচার নয়, এটি রাজনৈতিক নিপীড়ন, আর এর অবসান হবেই।”












