বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দেশ থেকে মাওবাদ সমস্যার অবসান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। গুয়াহাটিতে সিআরপিএফের প্রতিষ্ঠা দিবসের প্যারেডে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানালেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
সিআরপিএফ দিবসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah) বার্তা
শনিবার গুয়াহাটির সারুসজাই স্টেডিয়ামে সিআরপিএফের ৮৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। এই প্রথম উত্তর-পূর্ব ভারতে এমনভাবে সিআরপিএফ দিবসের প্যারেড হল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “আমি সিআরপিএফের উপর ভরসা করি। ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই দেশ থেকে মাওবাদ সমস্যার অবসান হবে।”
শাহ (Amit Shah) বলেন, ১০-১১ বছর আগে দেশে তিনটি বড় সমস্যা ছিল। সেগুলি হল- জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদী কার্যকলাপ এবং উত্তর-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদ। তাঁর দাবি, এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। যে জায়গাগুলো আগে অশান্ত ছিল, সেগুলো এখন উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে।নাতিনি আরও বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরে এখন পাথর ছোড়ার ঘটনা নেই বললেই চলে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর সেখানে একটি গুলিও চালাতে হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
‘অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট’ নিয়ে কথা
ছত্তিশগড় ও তেলঙ্গানা সীমান্তের কাররেগুট্টা পাহাড়ে ২১ দিনের ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট’-এর কথা উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল-মে মাসে এই অভিযানে ৩১ জন মাওবাদী নিহত হয়। ৪৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জওয়ানরা প্রতিদিন প্রায় ১৫ লিটার ঘাম ঝরিয়ে অভিযান চালিয়েছেন বলে তিনি জানান। সিআরপিএফের মহাপরিচালক G P Singh বলেন, এই অভিযান মাওবাদীদের “মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে”। তিনিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাওবাদ নির্মূলের আশা প্রকাশ করেন।
শাহ জানান, উত্তর-পূর্বে ৭০০, মাওবাদী এলাকায় ৭৮০ এবং জম্মু ও কাশ্মীরে ৫৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ দিয়েছেন। অসমে শান্তি ফেরাতে ৭৯ জন জওয়ান শহিদ হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২,২৭০ জন জওয়ান দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছেন বলে জানান তিনি। অনুষ্ঠানে ১৫ জন সিআরপিএফ কর্মীকে বীরত্ব পদক দেওয়া হয়। ছয় জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক দেওয়া হয়। সেরা ব্যাটালিয়নগুলোকেও সম্মান জানানো হয়।
ইতিহাসে প্রথম উত্তর-পূর্বে এই প্যারেড
প্রায় ৩.২৫ লক্ষ সদস্যের এই বাহিনীর ৮৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রতিষ্ঠা দিবসের প্যারেড উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুষ্ঠিত হল। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আটটি সিআরপিএফ কন্টিনজেন্ট এই কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। নেতৃত্ব দেন ২২৫তম ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট দীপক ঢৌন্ডিয়াল। মহিলা জওয়ানদের রাইফেল ড্রিল, কমান্ডোদের জঙ্গি দমন কৌশল এবং কোবরা ইউনিটের জঙ্গলযুদ্ধের প্রদর্শনী দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়।

আরও পড়ুনঃ বড়সড় ধাক্কা! রাজ্যের আপত্তি খারিজ করে বিরাট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট, কোন মামলায়?
উল্লেখ্য, সিআরপিএফের প্রথম ব্যাটালিয়ন ১৯৩৯ সালে ব্রিটিশ আমলে ‘ক্রাউন রিপ্রেজেন্টেটিভস পুলিশ’ নামে গঠিত হয়। স্বাধীনতার পরে ১৯৪৯ সালে দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল (Sardar Vallabhbhai Patel) এই বাহিনীর নাম দেন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স।












