বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের (Assembly Election) প্রথম পর্ব শেষ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ফলাফল নিয়ে হিসাব-নিকাশ, অন্যদিকে দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছে সব রাজনৈতিক দল। দ্বিতীয় দফার আগে জোরকদমে চলছে রাজনৈতিক প্রস্তুতি। এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় বিজেপির (Bharatiya Janata Party) সমর্থনে ব্যস্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
আত্মবিশ্বাসী সুরে অমিত শাহ (Amit Shah)
অমিত শাহের কথায়, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি অন্তত ১১০টি পেতে চলেছে।তবে দ্বিতীয় দফার সমীকরণ নিয়ে ভিন্ন মত শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যেসব জেলায় এবার ভোট হবে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই পর্যায়ে বিজেপিকে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলেই ধারণা।
সম্প্রতি, এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেন, “এবার এখানে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্য বারের থেকে এবার এই এলাকা থেকে আমরা অনেক বেশি আসন পেতে চলেছি।” এর আগে দমদমে আয়োজিত এক জনসভায় অমিত শাহ তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডারা কলোনিতে গিয়ে, বড় বড় ফ্ল্যাটে গিয়ে বলে আসছে, বেরোবেন না। ২৯ তারিখ সমস্যা হবে। আমি আজ তৃণমূলের গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখ বাইরে বেরবে না, নাহলে গুন্ডারা সমস্যায় পড়বে।”
ভোটের আবহে ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কমিশন আপনাদের নিরাপত্তার এবারে সুব্যবস্থা রেখেছে। আপনারা ভোট দিতে আসুন। এবার আপনাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই।” অন্যদিকে, বিজেপির এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী। তিনি বলেন, ” যারা আমাদেরকে এসে ধমকাচ্ছে, বাংলার মাটিতে এসে বাঙালিকে চমকাচ্ছে, ‘উল্টা করকে লটকা দেগা’, আমি বলব, সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন। বেলা ১২টার পর কথা হবে, দেখা হবে। কে কাকে উল্টো করে টাঙায়, বাংলার মানুষ দেখিয়ে দেবে ৪ তারিখ”। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া, পাল্টা-প্রতিক্রিয়া উত্তাপ বাড়াচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটে।
তৃণমূলকে কটাক্ষের পাশাপাশি ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন ফের আরও একবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে ফিডব্যাক রয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের জনতা নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রথম দফাতেই ঠিক করে নিয়েছে। নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে ভারতের বিকাশের যে যাত্রা চলছে, বাংলার প্রথম দফার ভোটাররা স্পষ্ট করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গও এতে জুড়তে চলেছে।”

আরও পড়ুন : ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইক বন্ধ? নয়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট
আত্মবিশ্বাসী সুরে শাহের মত,”৫ তারিখের পর অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ তিন জায়গায় ভারতীয় জনতা পার্টির শাসন হবে। পদ্মের শাসন হবে।” প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। এখন নজর দ্বিতীয় দফার দিকে। শেষ পর্যন্ত বাংলার ভোটাররা কাকে সমর্থন করেন, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।













