বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় নিজেদের রোডম্যাপ স্পষ্ট করতে সামনে এল বিজেপি। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে প্রকাশ করা হল ‘সঙ্কল্পপত্র’ (BJP Bengal Manifesto)। এই ইস্তাহার ঘিরে একদিকে যেমন শাসক দলকে কড়া আক্রমণ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলা, যুবক ও কর্মীদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতির বার্তা তুলে ধরলেন অমিত শাহ। বিজেপির দাবি, এই নথিই বাংলার আগামী দিনের দিশা দেখাবে।
সঙ্কল্পপত্রে কী কী প্রতিশ্রুতির বললেন অমিত শাহ (BJP Bengal Manifesto)?
বাঙালি নববর্ষ থেকেই প্রচারের সূচনা হবে বলে জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি বাংলায় নতুন উন্নয়নের পথ খুলতে চায়। তাঁর কথায়, রাজ্যে এখন ভয়, দুর্নীতি আর অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে সেখান থেকে মানুষকে মুক্ত করাই তাঁদের লক্ষ্য। এদিন “সোনার বাংলা” গড়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুপ্রবেশে কড়া অবস্থান : অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়ে এদিন শাহ বলেন, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট, এই তিন ধাপে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে সরানো হবে। পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা বাড়ানো এবং গরু পাচার বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা : সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।
এক আইন ও আইনশৃঙ্খলা : আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শাহ জানান, রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য এক আইন নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক হিংসার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে কমিটি গড়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
বেকারদের ভাতা ও চাকরি : বেকারদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আশ্বাস রয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবকদের ১৫ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
মহিলাদের জন্য একাধিক প্রতিশ্রুতি : মহিলাদের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে ইস্তাহারে। চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, প্রতিটি মণ্ডলে মহিলা থানা, প্রতিটি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
কৃষক ও শিল্পের উন্নয়ন : কৃষকদের জন্য ধানের নির্দিষ্ট দাম ঠিক করার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পে বাড়তি টাকা যোগ করে বছরে মোট ৯ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাসও রয়েছে। চা ও পাট শিল্পে জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত ও রাজ্যের প্রকল্প একত্রিত করে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এমস, আইআইটি, আইআইএম তৈরির কথাও জানানো হয়েছে।
পরিকাঠামো ও শিল্পে জোর : পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য তাজপুর ও কুলপিতে ডিপ সি পোর্ট তৈরি, চারটি নতুন উপনগরী গড়ে তোলা এবং হলদিয়া বন্দরের উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতার জন্য আলাদা ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
সংস্কৃতি ও পর্যটনে গুরুত্ব : সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নানা পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক সার্কিট উন্নয়ন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং থিয়েটারের জন্য আধুনিক প্রতিষ্ঠান গড়ার কথা বলা হয়েছে। দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গ ও পাহাড় প্রসঙ্গ : উত্তরবঙ্গে ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে রাজ্যভাগ নয়, একসঙ্গে থেকেই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।
মাফিয়ারাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা : মাফিয়ারাজ বন্ধ করতে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও বলেন শাহ। আটকে থাকা জমির কাজ ৪৫ দিনের মধ্যে ছাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারে এলে প্রথম ছ’দিনের মধ্যেই মাফিয়ার বিরুদ্ধে রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে।
বিতর্কিত ইস্যুতে অবস্থান : মাছ-ডিম নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরিবদের কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, মাছ-ডিমও বন্ধ হবে না।

আরও পড়ুনঃ ‘সুন্দরবনকে আলাদা জেলা করা হবে’, হাড়োয়া সভা থেকে ঘোষণা মমতার
সব শেষে অমিত শাহ জানান, বিজেপি জিতলে বাংলার মধ্য থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়া হবে। হুমায়ুন কবীর প্রসঙ্গে শাহ বলেন, বিজেপির সঙ্গে তাঁর আদর্শগত কোনও মিল নেই। এই ধরনের দলের সঙ্গে জোটের থেকে বিরোধী আসনে বসাই তাঁদের কাছে ভালো (BJP Bengal Manifesto)।













